যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গত দুই মাসে জেফরি এপস্টেইন ঘিরে যৌন পাচার–সংক্রান্ত তদন্তের লাখ লাখ নথি প্রকাশ করেছে। এসব নথিতে বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এনিয়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপস্টেইন ফাইলসে প্রখ্যাত মার্কিন ভাষাবিদ ও চিন্তাবিদ নোয়াম চমস্কির সঙ্গে কুখ্যাত যৌন অপরাধী এপস্টেইনের সখ্যতার কথা উঠে এসেছে।
জানা গেছে, ইমেইলে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ হতো। এপস্টেইনকে বিভিন্ন সময়ে পরামর্শও দিতে চমস্কি।
গত ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত নথি থেকে জানা গেছে, যৌনকর্মের জন্য নারীদের পাচারের অভিযোগ নিয়ে নিজের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে ‘নোংরা’ উল্লেখ করেছিলেন এপস্টেইন। আর এবিষয়ে তিনি নোয়াম চমস্কির কাছে পরামর্শ চেয়েছিলেন।
নথিতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে চমস্কির কাছে কিছু ই-মেইল পাঠিয়েছিলেন এপস্টেইন। ই-মেইলে চমস্কির কাছে জানতে চেয়েছিলেন, তিনি কি তাকে নিয়ে প্রকাশিত খবরের প্রতিক্রিয়ায় ‘আত্মরক্ষামূলক’ কিছু করবেন, না বিষয়টি ‘উপেক্ষা’র চেষ্টা করবেন।
ওই মেইলের জবাবে বলা হয়, বলতে কষ্ট হচ্ছে, তবে আমার মতে বিষয়টি উপেক্ষা করা সবচেয়ে ভালো।
এপস্টেইন ফাইলসের এসব তথ্যের বিষয়ে বিবিসির তরফে চমস্কির স্ত্রী ও তার মুখপাত্র ভ্যালেরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বিবিসি বলছে, নথিতে চমস্কির নাম থাকা মানেই তিনি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, বিষয়টি তা নয়।
২০২৩ সালে ৯৭ বছর বয়সী নোয়াম চমস্কি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয় উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন,প্রথম কথা হলো, এটি আপনার বা অন্য কারও জানার বিষয় নয়। দ্বিতীয়ত, আমি তাকে চিনতাম এবং মাঝেমধ্যে আমাদের দেখা হতো।

