যশোর-খুলনা মহাসড়ক
যশোর অফিস
আসন্ন ঈদে যশোর-খুলনা মহাসড়ক হয়ে ঘরমুখো মানুষের জন্য এবারও নেই কোনো সুখবর। ভাঙাচোরা, খোঁড়াখুঁড়ির রাস্তা দিয়েই কষ্টে ঘরে ফিরতে হবে যাত্রীদের। সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, সড়ক উন্নয়নের ৭০ ভাগ কাজ হয়েছে। বাকি উন্নয়ন কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্যমতে, যশোর-খুলনা মহাসড়কে রাজধানীসহ দূরপাল্লার ৩২টি রুটের যানবাহন চলাচল করে। ব্যস্ততম এ মহাসড়কের বর্তমান প্রস্থ ২৪ ফুট। এটি এখন দুই লেনে উন্নীত হয়ে ৩৪ ফুট হবে। সাড়ে চার থেকে পাঁচ ফুট গর্ত করে প্রথমে বালু ও পরে বালু-খোয়ার মিশ্রণ ও সবশেষ ১২০ মিলিমিটার বা প্রায় ৫ ইঞ্চি পুরুত্বের বিটুমিনাস সারফেসে তা ভরাট হয়ে তৈরি হবে মহাসড়ক। পালবাড়ী থেকে যশোরের শেষ প্রান্ত নওয়াপাড়ার রাজঘাট ৩৮ কিলোমিটারের মহাসড়কের উন্নয়নের কাজ শেষ হওয়ার সময় ২০২০ সালের জুন মাসে। তাই ঈদের আগে ভাঙাচোরা, খোঁড়া রাস্তা দিয়েই চলতে হবে যাত্রীদের।
এ সড়কে চলাচলকারীরা বলেন, সড়কের উন্নয়ন কাজ যেন শেষ হচ্ছে না। বৃষ্টি হলে কাদা-মাটি, আর রৌদ্র হলে ধুলার সৃষ্টি হয়। ফলে আমাদের ভোগান্তির শেষ থাকে না। মাসুদ পারভেজ নামে এক যাত্রী বলেন, আমরা এখন মাটির রাস্তা দিয়ে চলাচল করি। পাকা রাস্তা দিয়ে যে কবে চলতে পারব তা বলতে পারছি না।
চালকরা জানান, যশোর-খুলনা মহাসড়ক দিয়ে গাড়ি চালাতে বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছে। ঘটছে দুর্ঘটনা। বাসচালক আলী আহম্মেদ বলেন, রাস্তার অবস্থা খুব বেহাল। ট্রিপ নিয়ে সময়মতো পৌঁছাতে পারছি না। এ নিয়ে মালিক ও যাত্রীদের সঙ্গে অশান্তি হচ্ছে। ভোগান্তির শেষ নেই। মোটর শ্রমিক তরিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙাচোরা রাস্তায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি।
যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, যশোর-খুলনা রোড একটি প্রকল্পের আওতাভুক্ত। ৩৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ মহাসড়কটির প্রকল্প মূল্য ৩২১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। দুটি প্যাকেজে এর কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে— যার মেয়াদ ২০২০ সালের জুন মাস পর্যন্ত। বর্তমানে একটি প্যাকেজের কাজ ৭০ ভাগ শেষ হয়েছে। তবে বর্ষা মৌসুমে কাজ ঠিকভাবে করা যায় না। তাই সড়ক চলাচলের উপযোগী রাখার চেষ্টা করছি।
