লক্ষ্মীপুরে গড়ে উঠেছে ট্রলার নির্মাণশিল্প, হাজার মানুষের কর্মসংস্থান

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:১২

কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কিংবা আধুনিক ডকইয়ার্ড ছাড়াই দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে লক্ষ্মীপুরে বিকশিত হয়েছে সম্ভাবনাময় ট্রলার নির্মাণশিল্প। উপকূলীয় এই জেলায় বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ৪০০টি সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার ও নৌকা নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে বার্ষিক বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকা। এক সময় বড় সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার নির্মাণে বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হলেও এখন স্থানীয় কারিগরদের নিপুণ দক্ষতায় লক্ষ্মীপুরেই তৈরি হচ্ছে এসব জলযান। এর ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

জেলার রামগতি উপজেলার টাংকি বাজার, চরগাজী, আসলপাড়া ও আলেকজান্ডার মাছঘাট; কমলনগরের মতিরহাট ও ভাঙাপুল; সদর উপজেলার মজুচৌধুরীরহাট ও বেঁড়ির মাথা এবং রায়পুর উপজেলার চরবংশী ও হাজীমারাসহ অন্তত ১৩টি স্থানে ট্রলার ও নৌকা নির্মাণ করছেন স্থানীয় কারিগররা। বংশ পরাম্পরায় অর্জিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কাঠ ও লোহার সমন্বয়ে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এসব ট্রলার তৈরি করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি বড় সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার নির্মাণে আকারভেদে কয়েক লাখ টাকা থেকে শুরু করে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। প্রতিটি ট্রলার তৈরিতে একাধিক দক্ষ কারিগর ও শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন। দক্ষ কারিগররা দৈনিক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং সহকারী শ্রমিকরা ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি পেয়ে থাকেন।

লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন জানান, বর্তমানে জেলায় মেঘনা নদীতে চলাচলের জন্য প্রায় ৩ হাজার অনুমোদিত ফিশিং ট্রলার রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত লক্ষ্মীপুরে সরকারি বা বেসরকারি কোনো অনুমোদিত আধুনিক ডকইয়ার্ড গড়ে ওঠেনি। তিনি বলেন, ‘মূলত স্থানীয় উদ্যোক্তা ও কারিগরদের উদ্যোগেই এই শিল্প টিকে আছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, আধুনিক ডকইয়ার্ড এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে ট্রলার নির্মাণশিল্প আরো বিস্তৃত হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পরিকল্পিত ভাবে এই শিল্পের বিকাশ ঘটানো গেলে শুধু জেলেদের জীবনমান উন্নয়নই নয়, বরং লক্ষ্মীপুর জেলার সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

এদিকে কারিগর ও উদ্যোক্তারা মনে করছেন, সরকারি সহায়তায় আধুনিক প্রযুক্তি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে এই সম্ভাবনাময় শিল্প থেকে আরো বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

ইত্তেফাক/এসএএস