চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
আব্দুর রউফ রিপন, রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা সদরের গোল চত্বর থেকে সিংড়া উপজেলার কালিগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার সড়ক বর্তমানে খানা-খন্দে ভরা। এই সড়কের উন্নয়ন তথা সংস্কার, প্রশস্তকরণ, নতুন সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য আলাদা দুটি প্যাকেজে দরপত্রের কার্যাদেশ দেওয়া হলেও কাজ চলছে ঢিমেতালে। এতে এ সড়কে চলাচলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এ কাজ কবে শেষ হবে তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম বলেন, সরকার প্রতিবছর সড়ক, রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট উন্নয়নের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কারণে জনগণ যথাসময়ে তার সুফল পাচ্ছে না। হাজার হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগের কথা জানিয়ে অনতিবিলম্বে এই সড়কের কাজের গতি বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।
নওগাঁ সড়ক ও জনপদ (সওজ) অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলা হেড কোয়ার্টারের গোলচত্বর থেকে নাটোরের সিংড়া উপজেলার কালিগঞ্জ বাজার সংযোগ পর্যন্ত প্রায় ২৩ কিলোমিটার সড়কের উভয় পাশে প্রশস্তকরণ, সংস্কার ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য ৪৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয় ধরে দরপত্রের মাধ্যমে স্পেক্টা ইন্টারন্যাশনাল লিঃ ও ওয়াইড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামক জয়েন্টভেঞ্চার কোম্পানিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এই কাজের ঠিকাদারির দায়িত্ব পায় রাজশাহীর এএইচ এনটারপ্রাইজ। কাজের সময়সীমা ১ বছর ৪ মাস ১৫ দিন দেওয়া থাকলেও অর্ধেক সময় পার হওয়ার পরেও চোখে পড়ার মতো দৃশ্যমান তেমন কোনো কাজ কিছুই হয়নি। সড়কটি অতি জনগুরুত্বপূর্ণ ও উপজেলার পূর্বাঞ্চলের প্রধান সড়ক হওয়ার পরেও ঢিমেতালে কাজ করা হচ্ছে। এছাড়াও সড়কের দুই পাশে প্রশস্তকরণ করার কথা থাকলেও কাজ হচ্ছে এক পাশে। অথচ সড়কের দুই পাশের লাখ লাখ টাকার গাছ কেটে বিক্রয় করার কাজ চলমান। গাছ বিক্রয় ও টেন্ডারে অনেক অনিয়ম হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন পর সংস্কার কাজ শুরু করলেও কাজের গতি না থাকায় এখন আস্তে আস্তে চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে এই সড়কটি। উপজেলার পূর্ব-উত্তরাঞ্চল ও পূর্ব-দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকশ গ্রামের হাজার হাজার সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এই প্রধান সড়কের বেহাল দশার কারণে প্রতিনিয়ত ছোটো-বড়ো দুর্ঘটনা ঘটছে। দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার না করায় সড়কের অধিকাংশ স্থানে পাকা উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড়ো বড়ো খানা-খন্দে। দায়িত্বরত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এএইচ এনটারপ্রাইজের ম্যানেজার এ আর খান (লাবলু) বলেন, কার্যাদেশে দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা বলা আছে। বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণের কাজ চলছে। এই বর্ষা মৌসুম শেষ হলেই সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। সড়কটির প্রস্থে বাড়বে। তাই সড়কের একপাশ প্রশস্তকরণ করার কাজ করা হবে। আর সড়কের যে অংশগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ সেই অংশগুলো আপাতত চলাচলের জন্য মেরামতের কাজ করা হচ্ছে। আমরা আশাবাদী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে পারবো।
নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হামিদুল হক বলেন, গত দুই থেকে আড়াই মাস কাজ বন্ধ থাকায় দরপত্র বাতিল করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি পত্র দেওয়া হয়েছে। তবে ঐ পত্র দেওয়ার পর থেকে কাজের গতি বেড়েছে। যথাসময়েই কাজ শেষ বলে আশা করছি।
