ভাঙ্গুড়ায় খামারিরা বিপাকে হুমকির মুখে ক্ষুদ্র দুগ্ধশিল্প

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৯, ২১:৫৫

মাহবুব-উল-আলম, ভাঙ্গুড়া (পাবনা) সংবাদদাতা

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় স্থানীয় ক্ষুদ্র দুগ্ধ শিল্প হুমকির সম্মুখীন। স্থানীয়রা জানান, দুধে সিসা ও এন্টিবায়টিক পাওয়ার খবরে দুধের বাজারে ধস নেমেছে। বাজার মন্দার কারণে স্থানীয় ক্ষুদ্র কারখানায় দুধের চাহিদাও কমে গেছে। এতে এলাকার খামারীরা দুধ নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। দিশেহারা হয়ে এলাকার খামারীরা রাস্তায় দুধ ঢেলে প্রতিবাদ জানায়।

অভিযোগ উঠেছে, অধিক মুনাফা লাভের আশায় কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী সোডা, সয়াবিন তেল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে ভেজাল দুধ তৈরি করে বিভিন্ন ক্রয় কেন্দ্রে বিক্রি করছে। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ আশরাফুজ্জামান নকল দুধ তৈরির কারিগর সঞ্জয় ঘোষ নামের এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরে এক বছর কারাদণ্ড প্রদান করেন। ফলে দুগ্ধ কোম্পানিগুলো এখানে দুধ ক্রয় কমিয়ে দিয়েছে। অথচ এ উপজেলায় উত্পাদিত দুধের মান ভালো হওয়ায় এখানে খাঁটি ঘি, মাখন, ছানা ও সুস্বাদু মিষ্টি তৈরির অনেক ক্ষুদ্র শিল্প কারখানা যেমন— গড়ে উঠেছে তেমনি ব্র্যাক, মিল্ক ভিটা, প্রাণ ও আকিজসহ অনেক কোম্পানি এখানে দুধের ক্রয় কেন্দ্র খুলেছে।

মিল্ক ভিটার ম্যানেজার ডা. আশরাফুজ্জামান ও ব্র্যাকের ম্যানেজার খোরশেদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে দুধের মান নিম্ন হওয়ায় আমরা সীমিত আকারে ক্রয় করছি।

ভাঙ্গুড়ার সেলিম সুইট ও মুসলিম সুইটের স্বত্বাধিকারী খ ম সেলিম হোসেন ও মো মোকছেদ আলী বলেন, আগে প্রতিদিন যেখানে বিশ হাজার টাকা বিক্রি হতো সেখানে পাঁচ-ছয় হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। মানুষ দই, মিষ্টি, ঘি খাওয়া কমিয়ে দিয়েছে।

সুজানগরে পানির দরে দুধ বিক্রি

সুজানগর (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, সুজানগরে দুধের বাজারে ধস নেমেছে। উপজেলার অধিকাংশ হাটবাজারে ২৫ থেকে ৩০ টাকা লিটার দরে দুধ বিক্রি হচ্ছে। এতে দুগ্ধ খামারি ও গাভি পালনকারী কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছে।

উপজেলার বাড়ইপাড়া গ্রামের দুগ্ধ খামারি আব্দুর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশের বড়ো বড়ো মার্কেটে ঐ সকল কোম্পানির দুধের চাহিদা কমে গেছে। সে কারণে কোম্পানির স্থানীয় চিলিং সেন্টারে আগের মতো বিক্রি হচ্ছে না। তাছাড়া বর্তমানে দুধের উত্পাদনও অনেক বেশি। ফলে হাটবাজারে চাহিদার তুলনায় দিগুণ দুধ আমদানি হওয়ায় দরপতন হয়েছে।

উপজেলার গ্রামের ভবানীপুর গ্রামের গাভি পালনকারী কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, গত ১০/১৫ দিন আগেও প্রতি লিটার দুধ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি করেছি। কিন্তু বর্তমানে প্রতি লিটার দুধ ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে দুধ বিক্রি করা টাকায় গো-খাদ্যের খরচও হচ্ছে না। হাটবাজারে দুধের দরপতনের কারণে অনেকে ঐ দুধ গ্রামগঞ্জে ফেরি করে বিক্রি করছে বলেও তিনি জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জামাল উদ্দিন বলেন, প্রতি বছর এ সময় দুধের উত্পাদন বেশি হয়। সে কারণে দাম কমে যায়। উত্পাদন কমে গেলে আবার দাম বৃদ্ধি পাবে।