জামালপুর প্রতিনিধি
এবার স্মরণকালের বন্যায় জামালপুর জেলায় প্রায় ৭ হাজার মত্স্য খামারির ৯ হাজার ৩২টি পুকুরের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পানিতে ভেসে গেছে। এতে মত্স্য খামারিরা অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। মোটা অংকের ব্যাংক ঋণের বোঝা দায়-দেনার চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মত্স্য চাষিরা। খামারিরা সর্বস্ব হারিয়ে এখন চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।
জেলা মত্স্য অফিস ও মত্স্য খামারি সূত্রে জানা যায়, জামালপুর জেলার সাতটি উপজেলার মোট ৬৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬২টি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। সারা জেলায় ভয়াবহ বন্যায় ২২ হাজার ৫০০ পুকুর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে ৯ হাজার ৩২টি পুকুর সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়ে ভেসে গেছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। বন্যায় পুকুরের চারপাশে জাল এবং টিনের বেড়া দিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেনি মত্স্য খামারিরা। সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ১৬ হাজার ৪৮৬ জন মত্স্য খামারি।
এ বিষয়ে মেসার্স লিক্সা মত্স্য খামারি মেলান্দহ উপজেলার ক্ষুদিয়াকান্দা এলাকার বাসিন্দা মাহবুবা নাসরিন জানান, তার প্রায় ২০ একর জমির খামারে প্রায় কোটি টাকার মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।
সদর উপজেলার মেরাজ মত্স্য খামারের মালিক মেরাজুল হক বলেন, ব্যাংক ঋণের টাকার কিস্তি পরিশোধ, মাছের খাবারের বাকি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে দিশেহারা তারা। বর্তমানে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর দিনযাপন করছেন মত্স্য খামারিরা।
খামারিদের দাবি, সরকারিভাবে তাদের সহযোগিতা না করা হলে তারা এখন সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।
এ বিষয়ে জেলা মত্স্য কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ বলেন, এবারের ভয়াবহ বন্যায় সারা জেলার মত্স্য চাষিদের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের তালিকা প্রণয়ন করে সরকারের কাছে চাষিদের জন্য প্রণোদনার সুপারিশ করব।
