আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতার সাথে তাদের ভূমিকা পালন করতে পারছে কিনা তা নিয়ে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা পশ্চিমা কূটনীতিকদের কাছে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। ঢাকাস্থ কানাডিয়ান হাই কমিশনের উদ্যোগে গতকাল বুধবার সকালে গুলশানের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিরা বলেন, সরকার আর নির্বাচন কমিশন একাকার হয়ে গেছে। সরকার নির্বাচন কমিশনকে রক্ষা করতেই ব্যস্ত। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিরা বলেছেন, বিএনপি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলের ব্যাপারে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই।
বৈঠকে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস-এর রাষ্ট্রদূত এবং ঢাকাস্থ জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিতি একজন বিবিসি বাংলাকে জানান, নির্বাচনের পরিবেশ এবং নির্বাচন সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত জানতে চান কূটনীতিকরা। বৈঠকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দিপু মনি এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মেহজাবিন খালেদ। বিএনপি’র দিক থেকে যোগ দেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান। এছাড়া বিকল্প ধারা বাংলাদেশে সদ্য যোগদানকারী শমসের মবিন চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে নাগরিক সমাজের তরফ থেকে এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমীন মুর্শেদ।
বৈঠকের বিষয়ে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বিবিসি বাংলাকে বলেন, তিনি নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কথা বলেছেন। নির্বাচন কমিশন যাতে নিরপেক্ষতার সাথে রেফারির ভূমিকা পালন করে সেটি তুলে ধরেছেন তিনি।
এ অনুষ্ঠানে কূটনীতিকদের দিক থেকে তেমন কোন মন্তব্য করা হয়নি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা যেসব কথা বলেছেন সেগুলো শুধু শুনেছেন কূটনীতিকরা। তবে মার্কিন সংস্থা ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইন্সটিটিউট-এর (এনডিআই) একজন প্রতিনিধি বলেছেন, নির্বাচনের সময় নারীরা যাতে নিরাপদে ভোট দিতে পারে সেদিকে সবার নজর দেওয়া উচিত।
