ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে মাদারীপুর-২ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া (ধানের শীষ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্যকে (কলস) শোকজ করেছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাদের শোকজের নোটিশ জারি করা হয়। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি দুই প্রার্থীকে ওই কমিটির কাছে সশরীরে ব্যাখ্যার জন্য বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের কালিবাজারে উভয় প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত শুক্রবার স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে রোববার ওই কমিটির চেয়ারম্যান আরিফ হোসাইন (সিভিল জজ) স্বাক্ষরিত একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ এর বিধি ৬ (ক) অনুসারে প্রচারণার ক্ষেত্রে সকল প্রার্থী সমান অধিকার পাবেন এবং প্রতিপক্ষের জনসভা, শোভাযাত্রা এবং অন্যান্য প্রচারাভিযানে বাধা প্রদান বা ভীতি সঞ্চারমূলক কিছু করা যাবে না মর্মে বিধান রয়েছে। দাখিল করা অভিযোগ মতে আপনার (জাহান্দার আলী জাহান) সমর্থকরা বল প্রয়োগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্যের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দিয়েছেন। এই প্রেক্ষিতে কেন আপনার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং নির্বাচন কমিশন বরাবর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হবে না, সেই মর্মে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত জবাব দাখিল করার জন্য কমিটি কর্তৃক নির্দেশ দেওয়া হলো।
অন্যদিকে, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মোটরসাইকেল শোডাউন করায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্যকেও শোকজ করা হয়েছে। কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৯ (ক) অনুসারে নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো বাস, ট্রাক, নৌযান, মোটরসাইকেল কিংবা অন্য কোনো যান্ত্রিক বাহন সহকারে কোনো মিছিল, জনসভা কিংবা কোনোরূপ শোডাউন করতে পারবেন না মর্মে বিধান থাকলেও মিল্টন বৈদ্য শোডাউন করে ওই আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন মর্মে কমিটির কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে। তারপরও মিল্টন বৈদ্য শোডাউন করে এই আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন মর্মে কমিটির কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে। তাই তার বিরুদ্ধে কেন যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে মর্মে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত জবাব দাখিল করার জন্য নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি কর্তৃক নির্দেশ দেওয়া হলো।

