রাশিয়ার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু চুক্তি থেকে সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর একদিন পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে রাশিয়ার সঙ্গে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। বিবিসি খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সোভিয়েত যুগে রাশিয়ার সঙ্গে ‘দি ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস ট্রিটি’ বা আইএনএফ চুক্তি থেকে শুক্রবার বেরিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ চুক্তিটি ছিল মূলত অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণের ভিত্তি। চুক্তিটি বাতিল হয়ে যাওয়ায় অস্ত্র প্রতিযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি আবারও ‘ঠান্ডা যুদ্ধে’র দিনগুলো ফিরে আসার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ১৯৮৭ সালে আইএনএফ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগ্যান ও সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ। চুক্তি অনুযায়ী ৫০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের সব স্বল্প ও মাঝারিপাল্লার পরমাণু এবং অপারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। চুক্তির আওতায় ১৯৯১ সাল পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৭০০ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশ একে অন্যের স্থাপনাও পর্যবেক্ষণ করতে পারত। রাশিয়া চুক্তি লঙ্ঘন করেছে অভিযোগ এনে চুক্তিটি বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র।
আইএনএফ চুক্তি বাতিলের পর নতুন পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা কীভাবে এড়াবেন এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সঙ্গে নতুন পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করছে। যাতে করে তারাও কিছু ছাড় পায়, আমরাও কিছু ছাড় পাই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমাদের চীনকেও যুক্ত করতে হবে। নতুন এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটি বিশ্বের জন্য একটি বড়ো ঘটনা হবে। আলোচনায় চীন খুবই উত্সাহ দেখিয়েছে আর রাশিয়ার মনোভাবও একই। এ কারণে আমার মনে হয়, চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
