এই শহরের রূপ সৌন্দর্য্যে বিমোহিত হয়ে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম একদা নাম দিয়েছিলেন ‘প্রাচ্যের ভেনিস’। এরপর পর্যায়ক্রমে জৌলুস হারিয়ে বরিশাল নগরী রূপ নিয়েছিল জরাজীর্ণ নগরীতে। সেই দশা থেকে মুক্ত হয়ে আধুনিক নগরীতে বরিশালকে রূপ দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন সাবেক মেয়র প্রয়াত শওকত হোসেন হিরন। তার দায়িত্ব পালনকালে দেশের সর্বদক্ষিণের অবহেলিত শহর বরিশাল নতুন রূপ পেতে শুরু করে।
মাঝে কিছুদিন ভাটা পড়লেও বর্তমানে সেই প্রচেষ্টা ফের শুরু হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নগরীর সড়ক পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতায় পরিবর্তন এনেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি)। ভালো মানের সড়ক তৈরী হচ্ছে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধ কল্পে নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে থ্রিডি জেব্রা ক্রসিং স্থাপন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রোড ডিভাইডার স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া মশক নিধনের জন্য ৩০টি ওয়ার্ডে টিম গঠন করে কর্মতত্পরতা চলছে। নগরবাসীর নিরাপত্তার জন্য ৮টি বুথের মাধ্যমে প্রায় ৬শ সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। শিশু বান্ধব নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় শহীদ সুকান্ত বাবু শিশু পার্কের উদ্বোধন ও বঙ্গবন্ধু উদ্যান সংলগ্ন গ্রীণ সিটি পার্ক চালু করা হয়েছে বিসিসির উদ্যোগে। রাজস্ব আয়ও বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সবমিলিয়ে উন্নতমানের নাগরিক সেবা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সিটি কর্পোরেশন।
এ ব্যাপারে বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, বরিশাল শহরকে জলাবদ্ধতা, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলা ছাড়াও নগরবাসীকে সর্বোচ্চ নাগরিক সেবা প্রদান ও জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে বিসিসির।
