আইআইএলডির জরিপ

নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত জোটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৩৩

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন জোট ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলেছে। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল’ অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি (আইআইএলডি) পরিচালিত এক জনমত জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

জরিপ অনুযায়ী, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সম্ভাব্যভাবে ৪৪ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেতে পারে। অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট পেতে পারে ৪৩ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট। জরিপে সহযোগিতা করেছে প্রজেকশন বিডি ও জাগরণ ফাউন্ডেশন।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পুরানা পল্টনের একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে জরিপের তথ্য উপস্থাপন করেন আইআইএলডির নির্বাহী পরিচালক শফিউল আলম। তিনি জানান, ২১ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৬ দিন ধরে এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত এবং রাজনৈতিক জোট নিশ্চিত হওয়ার পরই জরিপ শুরু করা হয়।

জরিপে সারা দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের ৬৩ হাজার ১১৫ জন ভোটার অংশ নেন। এর মধ্যে— পুরুষ ভোটার: ৩৬,৬৩৪ জন (৫৭.৫৯%), নারী ভোটার: ২৬,৯৮১ জন (৪২.৪১%), ১৮–২৯ বছর বয়সী ভোটার: ১৭,৪৮১ জন (২৭.৪৮%)।

জরিপে দেখা গেছে— জাতীয় পার্টির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ১ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার, এখনো সিদ্ধান্তহীন ভোটার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

আইআইএলডির জরিপ অনুযায়ী— জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ১০৫টি আসনে নিশ্চিত জয় পেতে পারে, বিএনপি জোট ১০১টি আসনে নিশ্চিতভাবে এগিয়ে। ৭৫টি আসনে দুই জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা ও ১৯টি আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের জয় পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও মোট ভোটের হিসাবে বিএনপি জোট এগিয়ে, তবে নিশ্চিত জয়ের ক্ষেত্রে সামান্য এগিয়ে রয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট।

জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের মধ্যে— ৯২ শতাংশ ভোট দিতে আগ্রহী, ৪ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট দিতে চান না, ২ দশমিক ৫ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন।

গণভোট বিষয়ে— ৭৪ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার গণভোট সম্পর্কে সচেতন, ৮৯ দশমিক ৬ শতাংশ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পক্ষে ও ৯ দশমিক ১ শতাংশ ‘না’ ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, জরিপের এই ফলাফল আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে পারে। বিশেষ করে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আসনগুলো নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

ইত্তেফাক/এএম