ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৮ জন জামানত হারিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর ৬ প্রার্থী। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট আসনে প্রদত্ত মোট ভোটের কমপক্ষে এক-অষ্টমাংশ (১২.৫ শতাংশ) পেতে হয়। অন্যথায় মনোনয়নপত্র জমার সময় দেওয়া ৫০ হাজার টাকা জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
কুড়িগ্রাম-১
মোট প্রদত্ত ভোট: ৩,৬৩,৩৯৫
জামানত হারিয়েছেন ৩ প্রার্থী, তাদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর হারিসুল বারী (হাতপাখা, ৩৮,৮০৭ ভোট), গণঅধিকার পরিষদের বিন ইয়ামিন (ট্রাক, ২৩১ ভোট) ও জাকের পার্টির আব্দুল হাই (গোলাপ ফুল, ২,৯০৭ ভোট)।
এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর মো. আনোয়ারুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) ১,৪১,০৯০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
কুড়িগ্রাম-২
মোট ভোট পড়েছে: ৪,০৩,৬৩১
জামানত হারিয়েছেন ৭ প্রার্থী। তাদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টি–এর সাবেক এমপি পনির উদ্দিন আহমেদ (লাঙ্গল, ১৩,৮৪৬ ভোট) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর নূর বখত (হাতপাখা, ২৪,৮২৯ ভোট)।
এ ছাড়া নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও এক স্বতন্ত্র প্রার্থীও জামানত হারিয়েছেন।
এই আসনে এনসিপির ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ (শাপলা কলি) ১,৮০,৫২৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
কুড়িগ্রাম-৩
মোট ভোট পড়েছে: ২,২৭,৯৩৫
জামানত হারিয়েছেন ৩ প্রার্থী। তাদের মধ্যে জাতীয় পার্টি–এর আব্দুস সোবহান (লাঙ্গল, ২,১১২ ভোট) উল্লেখযোগ্য।
এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর মাহবুবুল আলম সালেহী (দাঁড়িপাল্লা) ১,০৭,৯৩০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
কুড়িগ্রাম-৪
মোট ভোট পড়েছে: ২,২৬,১৪০
জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ন্যূনতম ২৮,২৬৭ ভোট। ৭ প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনই জামানত হারিয়েছেন।
জামানত হারানোদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টি–এর কেএম ফজলুল মণ্ডল (লাঙ্গল, ২,১৮০ ভোট) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর হাফিজুর রহমান (হাতপাখা, ৬,২৩১ ভোট)।
এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর মো. মোস্তাফিজুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা) ১,০৮,২১০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
