হলফনামায় যে সব তথ্য দিলেন নারায়ণগঞ্জের ৫ প্রার্থী

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:২০

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনে ৬১ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে ৪৭ জনের মনোনয়ন বৈধ বলে প্রাথমিকভাবে বিবেচিত হয়। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় পাওয়া গেছে তাদের দেওয়া বিভিন্ন তথ্য। এর মধ্যে ৫ জন তাদের হলফনামায় যে সব তথ্য দিয়েছেন, সেগুলো সংক্ষেপে নিচে উল্লেখ করা হলো:

শামীম ওসমান

ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএএলএলবি। তার নামে এখন পর্যন্ত দায়েরকৃত মামলা সংখ্যা ১৭টি। ৩টি মামলায় বেকসুর খালাস, খালাস ৪টি, রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে প্রত্যাহার হয়েছে ৪টি, বাতিল হয়েছে ১টি, হাইকোর্ট কর্তৃক স্থগিত হয়েছে ৩টি ও অপর দুইটি মামলায় তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। হলফনামায় তিনি নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তার ৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মেসার্স জেড এন কর্পোরেশন, জেড এন শিপিং লাইনস লিমিটেড, মাইশা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড ও শীতল ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড। নিজের বাড়ি, দোকান ও অন্যান্য খাত থেকে বাত্সরিক আয় করেন ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬৬৪ টাকা। ব্যবসা থেকে তার বাত্সরিক আয় ২২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। শেয়ারের সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক থেকে জামানত সুদ থেকে তার বাত্সরিক আয় ১৩ লাখ ৬৩ হাজার ৬৮১ টাকা। জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানী পান ২২ লাখ ৪৭ হাজার ৩২৫ টাকা। তার স্ত্রী সালমা ওসমান লিপি ব্যবসা থেকে বছরে আয় করেন ২২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এছাড়া শেয়ারের সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক থেকে জামানত সুদ থেকে তার স্ত্রীর বাত্সরিক আয় ১৬ লাখ ৫৫ হাজার ৩৪ টাকা করে। তার নিজ নামে নগদ অর্থ রয়েছে ১০ লাখ ৮২ হাজার ৫৭০ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ১৩ লাখ ৬০ হাজার ৮২০ টাকা। এছাড়া তার উপর নির্ভরশীলদের নামে ৬৫ লাখ ১২ হাজার ৬৩৪ টাকা রয়েছে। তার বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ টাকা। স্ত্রীর নামে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৬৫২ টাকা। নির্ভরশীলদের নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত কোনো টাকা নেই। তার সাথে থাকা লাইসেন্সকৃত পিস্তলের মূল্য ৩৫ হাজার টাকা। 

সেলিম ওসমান

সদর-বন্দর আসনে জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক। তার নামে মামলা সংখ্যা ৮টি। হলফনামায় তিনি নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। ৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেছেন। কৃষিখাত থেকে সেলিম ওসমানের বাত্সরিক আয় ৫৩ লাখ ৪০ হাজার ৪৯০। বাড়ি, দোকান ভাড়া ও অন্যান্য খাতে বাত্সরিক আয় ২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাত্সরিক আয় ৬০ লাখ, শেয়ার ও সঞ্চয়পত্রে প্রাপ্ত সুদ থেকে আয় ৬ লাখ ৭১ হাজার ৩২৯ টাকা। এছাড়া জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানী ভাতা পান ২২ লাখ ২ হাজার টাকা। কৃষিখাত থেকে তার স্ত্রীর বাত্সরিক আয় ৪৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৪০ টাকা, বাড়ি ভাড়া থেকে ৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা, ব্যবসা খাত থেকে ৬০ লাখ টাকা, শেয়ার ও সঞ্চয়পত্রে প্রাপ্ত সুদ থেকে ৭ হাজার ২৮৮ টাকা আয় করেন। তার কন্যা ব্যবসা খাত থেকে ৬০ লাখ এবং শেয়ার ও সঞ্চয়পত্রে প্রাপ্ত সুদ থেকে ৫০ হাজার ৩১১ টাকা আয় করেন।

গোলাম দস্তগীর গাজী, বীর প্রতীক

রূপগঞ্জ আসনের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজীর শিক্ষাগত যোগ্যতা বি.এসসি। হলফনামায় বাড়ি ও অন্যান্য ভাড়া থেকে বাত্সরিক আয় ২ লাখ ৫৯ হাজার ২০০ টাকা। ব্যবসা থেকে তার বাত্সরিক আয় ৩৪ কোটি ৭১ লাখ ৯ হাজার ৫৩৭টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত আছে  ২ কোটি ৫১ লাখ ৮৮হাজার ৫৪৮টাকা। বোর্ড মিটিং ফি ও সংসদ সদস্য হিসেবে প্রাপ্ত ভাতা বাত্সরিক ২৩ লাখ ৯২হাজার ৭১৫টাকা। তার কাছে নগদ টাকা আছে ৮কোটি ১১লাখ ২৫হাজার ৮৮৮টাকা। স্ত্রীর নামে আছে ১২ লাখ ২৮হাজার ২৯৬টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার নামে জমা আছে ৩২কোটি ৫৫লাখ ৯৯হাজার ৩১৯টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৬ কোটি ৬৭ লাখ ৪২হাজার ১০৮টাকা। পরিবহন খাতে তার সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ৯৩ লাখ ১৩ হাজার ৫৫৭টাকা। তার অন্যান্য সম্পত্তির পরিমাণ ৬৯৬ কোটি ৭ লক্ষ ৬৪ হাজার ৮৫৩ হাজার টাকা বলে তিনি আর হলফনামায় উল্লেখ করেন। এছাড়া তার নামে জমি রয়েছে ৫ কোটি ৭৯ লাখ ৮১ হাজার ৪৫৮টাকা মূল্যের এবং তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৭০হাজার ৩৮০টাকা মূল্যের জমি। তার নামে দালানকোঠা রয়েছে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ও তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩ কোটি ৮৭ লক্ষ ৫৮হাজার ১১টাকা মূল্যের বাড়ি। তার নামে বিভিন্ন ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণের পরিমাণ ৫৭৮ কোটি ৮৮ লাখ ২৬ হাজার ৯৬টাকা।

নজরুল ইসলাম বাবু

আড়াইহাজার আসনের নজরুল ইসলাম বাবুর শিক্ষাগত যোগ্যতা এম.এস.এস (রাষ্ট্রবিজ্ঞান)। তার নামে দায়েরকৃত মোট মামলার সংখ্যা ৯টি। হলফনামা অনুযায়ী কৃষিখাত থেকে বছরে তার আয় ১০ হাজার ২০০ টাকা। বাড়ি ভাড়া ও দোকান ভাড়া থেকে নিজ নামে আয় না থাকলেও স্ত্রীর নামে আয় রয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫শ টাকা। মত্স্য চাষ হতে আয় বছরে ১২ লাখ ৫০ হাজার ৬০০ টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র/ ব্যাংক আমানত নিজ নামে ১৯ হাজার ৬৪৩ টাকা, স্ত্রীর নামে ৪৪ হাজার ৮৩৬ টাকা। তার স্ত্রী চিকিত্সা পেশা হতে বছরে আয় করেন ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তিনি নিজে সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানি ভাতা পান ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তার নগদ টাকা রয়েছে ১৯ লাখ ২৫ হাজার ৬৮৪ টাকা এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে ১০ লাখ ৫৭ হাজার ৪৩৫ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ১৩ লাখ ১৯ হাজার ৪২৩ এবং স্ত্রীর নামে আছে ১৭ লাখ ৩১ হাজার ৪৪৬ টাকা। শেয়ার আছে ৫ লাখ ৪২ হাজার ৭শ টাকার। স্ত্রীর নামে  রয়েছে ৬ লাখ ১২ হাজার ৪৭৭ টাকার শেয়ার। নিজস্ব টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার জিপ গাড়ির মূল্য ১ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ৪০৩ টাকা। ৬ লাখ ১২ হাজার ১৮৬ হাজার টাকা সমমূল্যের স্বর্ণালংকারসহ ৩৫ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে যার মূল্য তার জানা নেই। স্ত্রীর নামে ৫২.২৩ ভরি স্বর্ণালংকার আছে যার মূল্য তার জানা নেই। অকৃষি জমি আছে ২ কোটি ৬ লাখ ৯৫ হাজার ৭২০ টাকার। বাড়ি, এপার্টমেন্টের  আর্থিক মূল্য ৮১ লাখ টাকা। অন্যান্য খাতে আয় বছরে ৪১ লাখ টাকা।

লিয়াকত হোসেন খোকা

 সোনারগাঁ আসনে লিয়াকত হোসেন খোকা হলফনামায় স্বশিক্ষিত হিসেবে উল্লে­খ করেছেন নিজেকে। হলফনামা অনুযায়ী তার পেশা ব্যবসা। তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে কালীরবাজার চারারগোপে যাবতীয় কাঁচা পাকা ফলের আড়ত্ ও মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় লাবিবা ট্রেড লিংক আইউব প্ল­াজা। তার ব্যবসা থেকে বাত্সরিক আয় ১০ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪০ টাকা ও স্ত্রীর ব্যবসা হতে আয় ১১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। ব্যাংকে সুদ ও শেয়ার থেকে তিনি আয় করেন ৬১ হাজার ৬৩৪ টাকা ও তার স্ত্রী আয় করেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৮১৪ টাকা। এছাড়া জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে তার বাত্সরিক আয় ২২ লাখ ৪৩ হাজার ১৭৫ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির ভেতর তার নিকট ব্যবসা থেকে অর্জিত নগদ অর্থ রয়েছে ৮১ লক্ষ ৬ হাজার ২৮৮ টাকা ও ব্যবসা বহির্ভূত সম্পত্তি ১৭ লক্ষ ৫ হাজার ৭৫০ টাকা। একইভাবে তার স্ত্রীর নিকট ব্যবসা থেকে অর্জিত নগদ অর্থ রয়েছে ৫৭ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৫ টাকা। তার নামে ব্যাংকে জমাকৃত অর্থ রয়েছে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৯৪২ টাকা, স্ত্রীর নামে রয়েছে ৯ লাখ ৪ টাকা ও তার উপর নির্ভরশীলদের নামে ১৫ লাখ ৮৮ হাজার ৯৮৫ টাকা রয়েছে। তার নামে শেয়ার রয়েছে ৮ লাখ টাকার ও তার স্ত্রীর নামে শেয়ার রয়েছে ২ লাখ টাকার। লিয়াকত হোসেন খোকার নিজের কোন গাড়ি নেই। তার স্ত্রীর একটি গাড়ি রয়েছে যার বাজার মূল্য ২৪ লাখ ৩৫ হাজার ২৯ টাকা। স্বর্ণালংকার তার নিকট উপহার হিসেবে রয়েছে ৩০ ভরি ও তার স্ত্রীর নিকট উপহার হিসেবে রয়েছে ৮৪ ভরি। লিয়াকত হোসেন খোকার সৈয়দপুরে ৮ শতাংশ জমি রয়েছে যার মূল্য ২০ লাখ টাকা। তার নিজস্ব কোন বাড়ি নেই তবে তার স্ত্রীর শেয়ারে একটি ৩ তলা বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে যার মূল্য ২০ লাখ ৭২ হাজার ৬৭৯ টাকা।