সাভার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুন্নাহারের বিরুদ্ধে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন জানিয়েছেন। এছাড়া শিক্ষকদের এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা: এনামুর রহমানও তার স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেছেন।
অভিযোগে শিক্ষকরা উল্লেখ করেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুন্নাহার শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও নিয়ম-কানুনের নানা বাহানায় প্রতিষ্ঠান প্রধান ও অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা ভোগ করেছেন। এছাড়া প্রশাসনিক ভয়ভীতি দেখিয়ে শুধু এমপিওভুক্তির জন্য প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সহকারী গ্রন্থাগারিক, অফিস সহকারী ও কম্পিউটার শিক্ষকদের নিকট হতে অনলাইনে আবেদন কাজে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। সরকারি বই বিতরণের সময় কিন্ডার গার্টেনকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রচুর পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেছেন। ফলে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে বইয়ের সংকট দেখা দেয়। এছাড়া তাকে সময়মত অফিসে পাওয়া না যাওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুন্নাহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগপত্রে অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
শিক্ষকদের এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সংসদ সদস্য ডা: এনামুর রহমান স্বাক্ষরিত (ডি.ও নং-এমপি ১৯২/২০১৮/০০৭২৮) স্মারকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর সাভার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুন্নাহারকে সাভার উপজেলা হতে বদলি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মো: ইউসুফ বিষয়টি তদন্ত করছেন বলে জানা গেছে।
সাভার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক এস এম রফিকুজ্জামান অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুন্নাহারকে আমার স্কুলের একজন শিক্ষকের এমপিওভুক্তির কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর জন্য ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। টাকা না দেওয়া পর্যন্ত তার বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষককে কামরুন্নাহার দিনের পর দিন ঘুরিয়েছেন। এছাড়া সরকারি বই দেওয়ার সময় বিভিন্ন কিন্ডার গার্টেন স্কুলের প্রধানদের কাছ থেকেও ওই শিক্ষা কর্মকর্তা টাকা গ্রহণ করেছেন বলেও তিনি জানান। অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তার অসদাচরণ ও দুর্নীতি এমন মাত্রায় পৌঁছেছে যে, আমরা সম্মিলিতভাবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে বাধ্য হয়েছি। উক্ত কর্মকর্তা উপজেলা শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন আন্তঃ স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের সকল খরচ সম্পূর্ণ নিজে করেছেন এবং ক্রীড়া পরবর্তী সময়ে আর্থিক খরচাদির হিসাবও কমিটিতে উপস্থাপন করেননি। হিসাবের কথা বললেই তিনি রেগে যান এবং অসদাচরণ করেন। তবে সাভার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুন্নাহার সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কিছু অসাধু শিক্ষক আমার কাছ থেকে সুবিধা না পেয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ষড়যন্ত্র করছে।
