ছাদের বাগানই তাড়াবে মশা!

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৯, ২০:০৩

 

গাছ লাগানোর পর নিয়মিত বাগানের আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। ছাদে ছোট জলাশয় থাকলে জলজ উদ্ভিদের সংগ্রহ রাখতে পারেন। নানারকম শেওলা, বড়নখা, কচুরিপানা ইত্যাদি জলাশয়ে রাখতে পারেন। অনেক সময় সেখানে মশা হতে পারে।

তাহমিদ আহমেদ

 

শহরে ইট-পাথরের দেয়াল যতই বাড়ছে তত দ্রুতই হারিয়ে যাচ্ছে সবুজ। চারদিকে তাকালেই চোখ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। এরমধ্যে ভরসা একচিলতে বারান্দা কিংবা এক টুকরো ছাদ। শৌখিন ও প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ সবুজকে ধরে রাখার জন্য একান্ত নিজস্ব ভাবনা আর প্রচেষ্টায় আপন আপন বাড়ির ছাদে তৈরি করছেন ছাদ বাগান। শহরে এমন মানুষের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। তাই ঢাকাসহ অন্যান্য শহরের ছাদগুলো হয়ে উঠছে সবুজ।

বর্ষার শুরুতেই শুরু হয়েছে ডেঙ্গু আতঙ্ক। ভয়ে অনেকেই বাসার ছাদ থেকে উপড়ে ফেলছেন বাগান—এমন খবরও পাওয়া যাচ্ছে অহরোহ! এটা একদমই বোকার মতো কাজ। ছাদে বাগান থাকলেই যে ডেঙ্গু মশা আপনাকে জেঁকে ধরবে তা ঠিক নয়। খানিকটা সচেতন হলেই কোনো মশা ঠাঁই পাবে না আপনার বাগানে। বরং বাগানে আরো কিছু গাছ যোগ করতে পারেন, যেগুলো থাকলে আপনার ঘরে বা ছাদে কোনো কীটপতঙ্গ ঢুকবে না। এসব গাছের প্রাকৃতিক গুণ আমাদের বাড়ির বাগান, আঙিনা বা বারান্দাকে পোকামাকড় থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে।

 

মশা তাড়ায় যেসব গাছ

ঘাস প্রজাতির উদ্ভিদ সাইট্রোনেলা, মশা তাড়ানোর জন্য দুনিয়াজুড়ে সুনাম আছে এর। সেকারণে অনেক দেশে এটি ‘মশা গাছ’ নামে পরিচিত। এই উদ্ভিদটি আপনার বাগানের এক কোণায় লাগিয়ে ফেলতে পারেন মশা দমনে। গাছটির ডালপালার মাঝে সাইট্রোনেলার সুগন্ধ বহন করে, যা মশাকে মেরে ফেলতে সাহায্য করে। সাইট্রোনেলা গাছের পাতা ছিঁড়ে ত্বকে মাখলে এর অসাধারণ সুবাস বোঝা যায়। বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, সাইট্রোনেলা উদ্ভিদ থেকে উত্পন্ন তেল কার্যকরী কীটনাশক। তবে এটি ১ ঘণ্টা পরপর ব্যবহার করতে হবে। সূর্যের আলো বেশিক্ষণ থাকে এমন জায়গাতেই গাছটি লাগান।

কেমন হয়? এক গাছেই মশাও পালালো, আবার সৌন্দর্যও বাড়লো। একসঙ্গে এই দুই সুবিধা পেতে পারেন গাঁদা ফুল থেকে। বারান্দা কিংবা ছাদে লাগাতে পারেন এই গাছ। গাঁদা ফুলের পাঁপড়ি এবং গাছের পাতার মাঝে লুকানো আছে অ্যান্টিসেপ্টিক। শুধু তাই নয়, এ ফুলের একটি অনন্য গুণ হলো—এর পরাগ ও পাঁপড়ি থেকে আসা সুবাস মশা মাছি তাড়ায়। গাঁদা ফুলের কয়েকটি চারা আপনার বাড়ির বারান্দায় রেখে দিন।

মিঠা তুলসি বা বাসিলের পাতাও রাখতে পারেন আঙিনায়। বাগান বা ছাদে অন্যান্য গাছপালার সঙ্গে এটা লাগিয়ে রাখতে পারেন। এটা দেখতে অনেকটা পুদিনা পাতার মতো। ঘ্রাণও প্রচলিত তুলসির চেয়ে বেশ আলাদা, মিষ্টি। এর একটি তীব্র ভেজা গন্ধ পোকামাকড়কে ঘরবাড়ির আঙিনা আর বাগান থেকে দূরে রাখে। তাছাড়া বাসিল পাতার রস প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবেও ব্যবহার করা হয় সারা পৃথিবীতে। বাসিল পাতার রস কৃষি খামারিদের কাছে ‘বাগ স্প্রে’ নামেই অধিক পরিচিত।

পেপারমিন্ট বা মেন্থলের তাজা সুগন্ধ মশা তাড়ানোর দারুণ ভেষজ। এটি মশার প্রাকৃতিক কীটনাশক। এছাড়া ক্যাটনিপ গাছ মশার ওষুধ ডিইইটি থেকেও দশগুণ বেশি কার্যকর। মশা তাড়াতে উপকারী এই ভেষজ গাছটির সাধারণ সুবাসই যথেষ্ট। রোজমারি, মিন্ট ও সুগন্ধি জাতীয় আরো কিছু উদ্ভিদও লাগাতে পারেন। একটু অচেনা হলেও এসব গাছের চারা যদি জোগাড় করে লাগাতে পারেন তাহলে আতঙ্ক থেকে মুক্তি পাবেন অনেকাংশে।

তবুও সাবধান!

পৃথিবীর অন্যান্য অনেক দেশেই শুধু গাছের ভরসায় মশা তাড়ানোর বুদ্ধি শতভাগ কাজে লাগলেও আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে হয়তো ততটা কার্যকর নাও হতে পারে। তাই এসব উদ্ভিদ তো লাগাবেনই, পাশাপাশি কিছু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার। সন্ধ্যা হওয়ার অপেক্ষা না করে বিকেল বেলাতেই আপনার ঘরের জানালা-দরজা বন্ধ করে দিন। শীতের দিনে দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মশা ঘরে ঢোকে। বাড়ির আশেপাশে ময়লা ফেলবেন না। গাছের টবে কিংবা অন্য কোনো পাত্রে পানি জমতে দেবেন না। জানালার চারপাশে নেট লাগিয়ে দিতে পারেন। তাতে করে বাইরে থেকে মশা ঢোকার প্রবণতা একদম বন্ধ হয়ে যাবে।

গাছ লাগানোর ক্ষেত্রেও সাবধান থাকা জরুরি। কারণ খেয়াল রাখতে হবে সহজে যেন পানি নিষ্কাশন হয়, পরিপূর্ণ পুষ্টি পায়, মাটি যেন ঝরঝরে হয়। গাছে অতিরিক্ত পানি কিংবা কম পানিও দেওয়া যাবে না। বর্ষাকালে নিয়মিত বৃষ্টি হয়, তাই গাছের গোড়া না শুকিয়ে গেলে আলাদা করে পানি দিতে হবে না। খেয়াল রাখুন টব বা বেডে যেন পানি জমে না থাকে।

গাছ লাগানোর পর নিয়মিত বাগানের আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। ছাদে ছোট জলাশয় থাকলে জলজ উদ্ভিদের সংগ্রহ রাখতে পারেন। নানারকম শেওলা, বড়নখা, কচুরিপানা ইত্যাদি জলাশয়ে রাখতে পারেন। অনেক সময় সেখানে মশা হতে পারে। তাই জলাশয়ে গাপ্পি মাছ ছেড়ে দিলে তারা মশার লার্ভা খেয়ে ফেলবে। ফলে মশা জন্মাবে না। গাছগুলো মাঝে মাঝে প্রুনিং করলে বৃদ্ধি এবং ফলন ভালো হবে। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো গাছ নির্বাচন করা। জানতে হবে কোন গাছের জন্য কোন পরিবেশ দরকার।