২০২৬ সালে নিউজিল্যান্ডে দীর্ঘতম এবং ফিনল্যান্ডে সবচেয়ে কম সময় রোজা রাখবে

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫০

পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও ভৌগোলিক অবস্থান ও ঋতুভেদে এবার বিশ্বজুড়ে রোজার সময়ের বড় ধরনের তারতম্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী, চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে আগামী ১৮ বা ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সিয়াম সাধনা শুরু হবে। 

এবারের রমজানে বিভিন্ন দেশে রোজা রাখার সময় সর্বনিম্ন সাড়ে ১১ ঘণ্টা থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। মূলত ভৌগোলিক কারণে উত্তর গোলার্ধের বাসিন্দারা এবার তুলনামূলক কম সময় রোজা রাখবেন, যার স্থায়িত্ব হবে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টার মধ্যে। বিপরীতে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোতে মুসলমানদের ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত রোজা পালন করতে হতে পারে।

ইসলামিক ফাইন্ডারের দেওয়া তথ্যানুয়ায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় রোজা রাখতে হবে নিউজিল্যান্ডের মুসলমানদের। দীর্ঘতম রোজার এই তালিকায় নিউজিল্যান্ডের ঠিক পরেই অবস্থান করছে চিলি, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। 

অন্যদিকে, চলতি বছর সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের রোজা পালিত হবে ইউরোপ ও মেরু অঞ্চলের দেশগুলোতে। এর মধ্যে ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ড ও ফিনল্যান্ডের মুসলমানরা সবচেয়ে কম সময় রোজা রাখার সুযোগ পাবেন। নিরক্ষরেখা থেকে দূরত্বের কারণে এসব উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি দেশগুলোতে দিনের দৈর্ঘ্যের এই বিশাল পার্থক্য তৈরি হয়, যা সরাসরি রোজার সময়ের ওপর প্রভাব ফেলে।

আরব বিশ্বের দেশগুলোতে এবার রোজার সময়কাল সাড়ে ১২ ঘণ্টা থেকে ১৩ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সময়সীমা হবে পৌনে ১৩ ঘণ্টা থেকে সাড়ে ১৩ ঘণ্টার মতো। চন্দ্রবর্ষের হিসাব অনুযায়ী প্রতি বছর রমজান মাস প্রায় ১০ দিন এগিয়ে আসায় এবারের রমজান শীত মৌসুমের অনেকটা কাছাকাছি সময়ে পড়েছে। 

এর ফলে বিশ্বব্যাপী আবহাওয়া অনেকটা শীতল ও আরামদায়ক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে তীব্র গরম না থাকায় রোজাদারদের জন্য এবারের সিয়াম সাধনা অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক ও সুখকর হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ের পার্থক্যের কারণেই এই তারতম্য তৈরি হয়, যা প্রতি বছরই আবর্তিত হতে থাকে। উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে এবার সময় কম থাকলেও আগামী বছরগুলোতে তা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করবে এবং দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোতে তা কমে আসবে। তবে সময়ের এই ভিন্নতা সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে রমজান পালনের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার দীর্ঘ সময় রোজা রাখাও শারীরিক ও মানসিকভাবে তুলনামূলক সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/টিএইচ