সরকারি মহলে সাকিব-মাশরাফিকে নিয়ে আলোচনা

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৪

নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের টেবিলে মাশরাফি-সাকিব ইস্যু আলোচনায় উঠে এসেছে। বিএনপি সরকারের নির্বাচিত একাধিক সংসদ সদস্য মাশরাফি-সাকিবের ওপর আস্থা রাখছেন। দেশের দুজন সংসদ সদস্য মনে করছেন মাশরাফি-সাকিব দেশের জন্য সম্পদ। কথা বলেছেন নানা ইস্যু নিয়েও। তাদের আলোচনায় ইঙ্গিত দেয় দেশে ফিরতে পারেন সাকিব আল হাসান। মাশরাফি আবার ক্রিকেটে আঙ্গিনায় ফিরতে পারেন। দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। হত্যা মামলাও রয়েছে। কিন্তু একটা বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের কাছে বিশ্বাস হচ্ছে না, বা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় বসে কাজ শুরু করলে সাকিব-মাশরাফিরা হয়তো আবার বাংলাদেশের মুক্ত আকাশে ফিরতে পারবেন।

বিএনপির সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন এবং আলী আজগর লবী দুজনেই সাকিব-মাশরাফি ইস্যুতে গতকাল বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাদের মন্তব্য প্রকাশ করেছেন। এই দুই ক্রিকেটার গণহত্যায় জড়িত, তারা বিশ্বাস করেন না। মাশরাফি এবং সাকিব দুজনই দেশের সম্পদ মনে করেন, দুই সংসদ সদস্য।

বিসিবির সাবেক সভাপতি আলী আজগর লবী মনে করেন দেশের স্বার্থে সাকিব-মাশরাফিকে ফেরাতে পারে বিএনপি। কিছু দিন আগে ক্রিকেট বোর্ডের আট ঘণ্টার সভা শেষে বিসিবি সাকিবের কথা জানিয়েছিল। সাকিব খেলতে চান। সাকিবের সঙ্গে বিসিবির কথা হচ্ছে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে মামলা কী অবস্থা রয়েছে, তার ওপর। সাকিব আগেও বলেছিলেন তিনি খেলে নিরাপদে দেশ ছাড়তে চান। কিন্তু তাকে সেই গ্যারান্টি দিতে পারেনি বিসিবি। ফলে সেবার মাঝ পথে এসেও দুবাই হতে ফিরে গিয়েছিলেন সাকিব। 

সাকিব হত্যা মামলার অভিযোগে অভিযুক্ত। গার্মেন্টস কর্মীকে হত্যা করার অভিযোগ রয়েছে। যেখানে এক নম্বর আসামির তালিকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, দ্বিতীয় আসামি সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শীর্ষ তালিকায় সাকিবের নাম নেই। সাকিব হত্যাকাণ্ডে জড়িত সেটি বিশ্বাস করেন না সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। ব্রাদার্সের সভাপতি ইশরাক হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন মাশরাফি-সাকিব দেশের সম্পদ তাদের বিরুদ্ধে মামলা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। 

নিরাপত্তা ইস্যুতে সাকিব দেশে ফিরতে পারেননি। তবে সাম্প্রতিক সাকিব ইস্যুতে সরব খোদ ক্রিকেট বোর্ডে। বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর জানিয়েছিলেন সাকিব ফিরবেন। সাবিক অ্যাভেইলেবল হলে তাকে নেওয়া হতে পারে। গুঞ্জন রয়েছে ফেব্রুয়ারিতেই সাকিব দেশে ফিরতে পারেন। তাকে নিয়ে কাজ করছে ক্রিকেট বোর্ড। যদি ফেরেন তাহলে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাবেন তিনি। ২০২৪ সালে কানপুরে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট খেলেছিলেন সাকিব আল হাসান। মার্চে সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসবে পাকিস্তান।

নিরাপত্তা ইস্যুতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে ভারতে যায়নি বাংলাদেশ। বিকল্প ভেন্যু শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাইলেও অনুমতি পায়নি আইসিসির। যে কারণে নিরাপত্তার কথা বলে বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্ট খেলতে যায়নি। ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানুয়ারিতে জানিয়েছিলেন নিরাপত্তা ইস্যুতে সরকারের সিদ্ধান্তে খেলতে যায়নি বাংলাদেশ। বিসিবির পরিচালকও জানিয়েছিলেন সরকার যদি অনুমতি না দেয় তাহলে ক্রিকেট দলকে দেশের বাইরে পাঠানো যায় না। 

কিন্তু সম্প্রতি ক্রীড়া উপদেষ্টা জানিয়েছেন বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বিসিবি এবং ক্রিকেটারদের। বাংলাদেশের খেলতে না যাওয়া প্রসঙ্গে আইসিসির সভায় ভোটাভুটিতে ১৬ ভোটের মধ্যে বাংলাদেশ ২ ভোট পেয়েছিল। ১৪ ভোট বাংলাদেশের বিপরীতে পড়ে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে আলী আজগর লবী জানিয়েছেন বিসিবির কূটনৈতিক বিজয় পাওয়া উচিত ছিল।'

নির্বাচনের আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাকিব ইস্যুতে ইতিবাচক কথা বলেছিলেন। এখন নির্বাচনের পর বিএনপি সরকারের মধ্যে সাকিব ও মাশরাফি ইস্যু নিয়ে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে তাতে দুই ক্রিকেটারের জন্য বন্ধ দুয়ার খুলে যেতে পারে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ