ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলে টিকে থাকার লড়াই

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:১৮

শীতের নরম রোদে ঝলমল করছে বিস্তীর্ণ সাদা বালুচর। দূরে সরু নীল রেখার মতো বয়ে চলেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। চারদিকে ধুধু বালি নেই ঘন সবুজের ছায়া, নেই পর্যাপ্ত ঘাসের প্রাচুর্য। এই শূন্যতার মাঝেই প্রতিদিন খাবারের সন্ধানে ১৫ থেকে ১৮ কিলোমিটার পথ হেঁটে বেড়ায় গরুর এক একটি পাল।

পথের ক্লান্তিতে মাঝ বালুচরেই কখনো শুয়ে পড়ে তারা। পাশে গামছা বিছিয়ে বা বালির ওপরই শুয়ে বিশ্রাম নেন রাখাল। চোখে অনিশ্চয়তার ছায়া, তবু থেমে থাকে না জীবনের লড়াই। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চলে এভাবেই টিকে আছে মানুষ আর গবাদিপশুর জীবন।

উপজেলার ভরতখালী এলাকার রাখাল মফিজ উদ্দিন ভোর হতেই গরুর পাল নিয়ে বের হন। একসময় তাঁর গরু ছিল ১৮টি। সম্প্রতি একটি হারিয়ে গেছে। এখন রয়েছে ১৭টি। সেগুলো নিয়েই চর থেকে চরে ঘুরে বেড়ান তিনি কখনো নদীর ধারে, কখনো দূরে কোথাও সবুজ ঘাসের ক্ষীণ আভাস দেখলে সেদিকে।

“চরে ঘাস কম। না হাঁটালে গরু খেতে পায় না,” বলেন মফিজ উদ্দিন। “কষ্ট হয়, কিন্তু এটাই আমাদের জীবিকা।”

দীর্ঘ পথ হেঁটে ক্লান্ত হয়ে পড়লে গরুগুলো বালুচরেই বসে পড়ে। তখন সূর্যের বিপরীত দিকে শুয়ে পড়েন মফিজ। মাথার গামছা খুলে ঘাম মুছতে মুছতে তাকান আকাশের দিকে। মনে প্রশ্ন—কবে মিলবে একটু বেশি ঘাস, একটু নিশ্চিন্ত দিন?

স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষায় নদীর পানি বাড়লে চর ডুবে যায়। আবার শুষ্ক মৌসুমে জেগে ওঠে বিশাল বালুচর। তখনই প্রকট হয় খাদ্যসংকট। ঘাসের অভাবে গরুগুলোকে দূরদূরান্তে হাঁটানো ছাড়া বিকল্প থাকে না।

চরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও গবাদিপশু যেন একই সুতোয় বাঁধা। নদীর ভাঙন, জোয়ার-ভাটা আর প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করেই টিকে থাকতে হয় তাদের।
ধুধু বালুচরের বুকেই তাই প্রতিদিন লেখা হয় সংগ্রামের গল্প। গরুর পালের পেছনে ধীর পায়ে হাঁটেন এক নীরব রাখাল—জীবিকার তাগিদে, আশার টানে।

ইত্তেফাক/এএইচপি