শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ইকুরি এলাকায় মাছ চুরির অভিযোগে সেলিম পাইক (৩০) নামে এক যুবককে হাত-পা বেঁধে এবং গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে তার ডান পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আহত যুবক বর্তমানে শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জন মফিজুর রহমান জানান, সেলিমের ডান পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। হাড় দুটি টুকরা হয়ে গেছে এবং সার্জারি করে জোড়া লাগানো প্রয়োজন।
ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে জেলা শহরের মৎস্যখামারি শাহীন মাদবর ও তার লোকজনকে উল্লেখ করা হচ্ছে। শাহীন মাদবর দাবি করেছেন, চার মাস আগে তার খামারের মাছ চুরির ঘটনায় সেলিমসহ সাতজনকে থানায় মামলা করা হয়েছিল। রোববার ভোরে ছয়জনকে খামারে জাল দিতে আসায় তার লোকজনকে ধাওয়া করা হয়। পরে সেলিমকে ধরে পেটানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সেলিমকে মাছের খামারের পানির ভেতর থেকে তুলে পাড়ে আনা হয়, তার হাত রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয় এবং একাধিক ব্যক্তি গাছের ডাল দিয়ে তাকে মারধর করে। একটি ৪৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা গেছে, দুই ব্যক্তি সেলিমকে ধরেছে, এক ব্যক্তি তাকে ধরে রাখে এবং দুইজন মিলে গাছের ডাল দিয়ে আঘাত করে। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, সেলিমকে বেঁধে পা মারধর করা হচ্ছে, এবং তিন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে তা দেখছেন।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রবিউল হক জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং ভুক্তভোগী আইনগত পদক্ষেপ নিলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আহত সেলিম পাইক বলেছেন, “আমি মাছ চুরি করিনি। আমাকে অমানবিকভাবে পিটানো হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।”
এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, এবং মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয়রা যথাযথ বিচার দাবি করছেন।
