রাজশাহীর হাটে বাড়ছে ভারতীয় গরুর উপস্থিতি

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৯, ২১:১৪

ফুলবাড়ীতে দেশি গরুর আধিক্য

ইত্তেফাক ডেস্ক

রাজশাহীর হাটগুলোতে ভারতীয় গরুর উপস্থিতি বাড়ছে। অন্যদিকে ফুলবাড়ীতে দেশি গরু দিয়েই জমে উঠেছে তিনটি বড় বড় কোরবানির পশুর হাট।

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী জানান, ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসায় রাজশাহীর সবকটি পশুর হাট জমে উঠেছে। তবে ঈদ যতই কাছে আসছে ততই হাটগুলোতে ভারতীয় গরুর আধিপত্য বাড়ছে। এতে লোকসানে পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় খামারিরা।

ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত মাসে রাজশাহী সীমান্ত দিয়ে গরু আসছে ভারত থেকে। এসব গরু ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন হাটে। বৈধ ও অবৈধভাবে গরুগুলো আসছে সীমান্ত দিয়ে। রাজশাহী সিটিহাটে খামারি আমজাদ হোসেন জানান, হাটে দিনে ভারতীয় গরুর সংখ্যা বাড়ছে। এতে ক্রমান্বয়ে দেশিগুলোর ক্রেতার সংখ্যা কমেছে।

এদিকে রাজশাহীতে এ বছর কোরবানির জন্য যে সংখ্যক দেশি গরু রয়েছে তাতে ভারত থেকে আমদানি করার খুব বেশি প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

রাজশাহী প্রাণি সম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর জেলায় কোরবানির চাহিদা রয়েছে ৪ লাখ সাড়ে ৪ হাজার পশুর। জেলার ৯ উপজেলায় ছোট বড় মিলে প্রায় ১৭ হাজার ৭০০টি খামার রয়েছে। গতবার জেলায় পশু জবেহ হয়েছিল ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫১৯টি। যার মধ্যে গাভি ও বকনা ২ হাজার ৯৮১টি, ষাঁড় ও বলদ ৭১ হাজার ২৫৬টি, মহিষ ৭৪৫টি, ছাগল ৩ লাখ ১৭ হাজার ৬৯৪টি ও ভেড়া ৩ হাজার ৮৪৩টি।

এখন পর্যন্ত খামারি ও গৃহস্থের ঘরে কোরবানির জন্য সম্ভাব্য মজুত রয়েছে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৭৪টি। যার মধ্যে গাভি ও বকনা ছয় হাজার ১৮টি, ষাঁড় ও বলদ ৭১ হাজার ৮৩১টি, মহিষ দুই হাজার ৬৭৫টি, ছাগল দুই লাখ ৭৪ হাজার ৭৫টি ও ভেড়া ১৩ হাজার ৬৭৫টি এবং অন্যান্য এক হাজার ১৩৬টি। প্রাণি সম্পদ অফিস থেকে প্রতি বছর ২ শতাংশ বৃদ্ধি ধরে সম্ভাব্য চাহিদা নিরূপণ করা হয়। এতে আগামী ঈদে ৩৪ হাজার ৮৭৫টি পশুর ঘাটতি রয়েছে। এ সামান্য ঘাটতি আশেপাশের জেলাগুলোর দেশি পশু দিয়েও মেটানো সম্ভব। তবে চাহিদার তুলনায় অধিক পশু থাকার পরেও সীমান্ত দিয়ে গরু আসায় খামারিরা লোকসানে পড়বেন। ফলে তারা নিরুত্সাহিতও হবেন বলে মন্তব্য করেছেন দেশি খামারিরা।

ফুলবাড়ীতে পশুর হাটে দেশি গরুর আধিক্য

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, ফুলবাড়ীতে দেশি গরু দিয়েই জমে উঠেছে তিনটি বড় বড় কোরবানির পশুর হাট। খামারিরা সারা বছর অনেক কষ্ট করে ভালো দামের আশায় গরুগুলো এসব হাটে তুলেছেন। ক্রেতারাও তাদের পছন্দের গরুটি কেনার জন্য পশুর হাটগুলোতে ভিড় করছেন। এ বছর ভারতীয় গরু না আসায় দেশীয় খামারি ও গৃহস্থ ভালো দামের আশা করছেন। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, স্থানীয় খামারি ও গৃহস্থ যেসব গরু লালন পালন করেছেন তা হাটে উঠলে কোরবানির পশুর সংকটে পড়বে না। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গত শুক্রবার খরিবাড়ী হাট, গত শনিবার বিকালে উপজেলার বালারহাট ও রবিবার দুপুরে ফুলবাড়ী বাজারের হেলিপ্যাড হাটে এসব গরু পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে সব চেয়ে বড় পশুর হাট হলো সীমান্ত ঘেঁষা বালারহাট। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ভিড়ে জমে উঠেছে এসব পশুর হাট। ছোট ও মাঝারি সাইজের গরুর সরবরাহ সবচেয়ে বেশি। ৩০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার মধ্যেই মিলছে পছন্দের গরু।

উপজেলার সীমান্তবর্তী  বালারহাট গিয়ে দেখা গেছে, কোনো প্রকার ভারতীয় গরুর দেখা মেলেনি। শুধুই দেশীয় গরু দিয়ে জমে উঠেছে পুরো হাট। ক্রেতা-বিক্রেতাদের ঢলে মুখরিত বালাহাট বাজার। বালারহাট ইজারাদার আইয়ুব আলী জানান, কোনো ঝামেলা ছাড়াই পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতারা আনন্দ উত্সবের মাঝে তাদের পছন্দের গরু ও ছাগল কিনেছেন। তিনি জানান হাটে মঙ্গলবার ও শনিবার এই দুই হাট মিলে ২৮০টি গরু ও ৩০০টি ছাগল কেনা বেচা হয়েছে। তবে ভারতীয় গরু আসলে এর কয়েক গুণ বেশি কেনা-বেচা হতো।  

এ প্রসঙ্গে ফুলবাড়ী উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আনিচুর রহমান জানান, উপজেলায় আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ২৪ জন কামারি ও শতশত গৃহস্থরা বাড়িতে দেশি গরু লালন-পালন করছে।