তাহিরপুরে ঈদের আগে ধান কিনছে গুদাম কর্তৃপক্ষ

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৯, ২১:১৬

খুশি তাহিরপুরের কৃষকরা

 তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ঈদকে সামনে রেখে সম্প্রতি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় শুরু করছে খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ। ঈদের আগেই সরকারি খাদ্য গুদামে সরকারি ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রি করতে পারায় হাওর বেষ্টিত তাহিরপুর উপজেলার পাড়ের কৃষকদের আনন্দের সীমা নেই।

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এমন অবস্থায় ধানের বর্তমান বাজার মূল্য প্রতি মণ ধান ৬৫০ থেকে ৬৮০ টাকা। কিন্তু সরকারিভাবে তাহিরপুর খাদ্য গুদাম কৃষকদের কাছ থেকে ১ হাজার ৪০ টাকা টাকা দরে প্রতি মণ ধান কিনে নিচ্ছে। সরকারিভাবে প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৪০ টাকা দরে খাদ্য গুদামে বিক্রি করতে পারায় প্রতি মণ ধানে কৃষক ৪০০ টাকা বেশি মুনাফা পাচ্ছেন। সরকারি হিসেব মতে, এক জন কৃষক খাদ্য গুদামে বিক্রি করতে পারবেন ১ টন ধান। যেখানে ১ টন ধান বাজারে বিক্রি করলে এক জন কৃষক পেতেন ১৭ হাজার ৫৫০ টাকা। কিন্তু সরকারিভাবে খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে পারায় প্রতি টন ধানে কৃষকরা বাজার মূল্য পাচ্ছেন ২৬ হাজার টাকা। ফলে বাজার মূল্য থেকে এক জন কৃষক পাচ্ছেন ৮ হাজার ৪৫০ টাকা বেশি।

উপজেলা খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা যায়, সরকার এ বছর তাহিরপুর উপজেলায় প্রথম ধাপে ৫৩১ টন ধান ক্রয়ের বরাদ্দ দিয়েছেন। ইতিমধ্যে কৃষকদের কাছ থেকে ৪৮০ টন ধান সংগ্রহ করেছেন খাদ্য গুদামের কর্মকর্তারা। সেইসঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের বরাদ্দ থেকেও কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করছেন তারা। শনিবার সকালে উপজেলা খাদ্য গুদামে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে কৃষকরা শত শত মণ ধান নিয়ে বিক্রি করার জন্য আসছেন খাদ্য গুদামে। এসব ধান মণ হিসেবে খাদ্য গুদামে নগদ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করছেন কৃষকরা। উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের মানিকখিলা গ্রামের কৃষক ইউনুস মিয়া এ বিষয়ে বলেন, ঈদের আগে গোদামে ধান বিক্রি করতে পেরে তাদের খুব ভালো লাগছে। ধান বিক্রির টাকা দিয়ে এবারের ঈদে পরিবারের সবার জন্য নতুন জামা কাপড় কিনতে পারবেন।

শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের নবাবপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নওশাদ আলী জানান, ঈদের আগে ধান বিক্রি করে টাকা হাতে পেয়ে অনেক উপকারে এসেছে। বালিজুরি ইউনিয়নের পুরান বারুঙ্কা গ্রামের নজির মিয়া জানান, বর্তমান বাজার মূল্য প্রতি মণ ৬৫০ টাকা হলেও সরকার প্রতি মণ ১ হাজার ৪০ টাকা মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে নিচ্ছেন।

তাহিরপুর উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মনধন চন্দ্র দাস বলেন, হাওর পাড়ের কৃষকদের দাবি ছিল ঈদের আগেই খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির। তারা এ লক্ষ্যেই প্রতিদিন কৃষক-কৃষানির কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করেছেন। আশা করছেন, ঈদের আগেই তারা বেশিরভাগ ধান সংগ্রহ করে ফেলবেন।