অযত্ন অবহেলায় গৌরীচন্না বাজারের শহীদ মিনার

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৫৪

বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না বাজারে ইউনিয়ন ভূমি অফিস সংলগ্ন ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনারটি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে অবহেলায় পড়ে আছে। মিনারটি এখন কার্যত পরিত্যক্ত। অভিযোগ রয়েছে, ফুলঝুড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিস সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের সময় শহীদ মিনারটি প্রাচীরের ভেতরে রেখে দেয়, ফলে সেখানে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা নিজ উদ্যোগে বরগুনা–বাকেরগঞ্জ সড়কের পাশে শহীদ মিনারটি নির্মাণ করেন। এরপর প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও যুবকেরা সেখানে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করতেন।

কিন্তু ২০১৯ সালে ফুলঝুড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিস তাদের জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের সময় শহীদ মিনারটি প্রাচীরের ভেতরে রেখে দেয়। এতে মিনারটিতে যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারের প্রাণকেন্দ্রে ভূমি অফিসের পূর্ব পাশে সড়কের কাছেই মিনারটি নির্মিত হয়েছিল। বর্তমানে সেখানে প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। ভূমি অফিসের গেটঘেঁষা বেড়া থাকায় কেউ শহীদ মিনারের প্রাঙ্গণে যেতে পারেন না। এ ছাড়া বাজারের কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আবর্জনা ফেলে মিনারের সামনে স্তূপ করে রাখছেন। দীর্ঘদিন সংস্কার ও রং না করায় মিনারটি জীর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।

শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোক্তাদের একজন ব্যবসায়ী হেমায়েত উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, গৌরীচন্না বাজারে ভাষা শহীদদের স্মরণে কোনো মিনার ছিল না। আমি, প্রয়াত জসীম উদ্দিনসহ স্থানীয় অনেক যুবক মিলে এটি নির্মাণ করি। কিন্তু সীমানাপ্রাচীর করার সময় আমাদের অনুরোধ উপেক্ষা করে মিনারটি ভেতরে রেখে দেয় কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় যুবক অপূর্ব মাঝি বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির অস্তিত্বের দিন। রফিক, শফিক, জব্বারের রক্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন। অথচ এখানে এখন আর শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ নেই। দ্রুত মিনারটি সংস্কার ও উন্মুক্ত করার দাবি জানাই।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ২১ ফেব্রুয়ারির আগে মিনারটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পুষ্পস্তবক অর্পণের উপযোগী করা হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি