ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি যুক্তরাজ্য, ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১৩

ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের লক্ষ্য পূরণে ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই প্রস্তাবে সায় না দেওয়ায় তার সরকারের ওপর ট্রাম্প প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’। মূলত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি এড়াতে এবং কোনো বড় সংঘাতের দায়ভার এড়াতে ব্রিটেন এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের সুইন্ডনের কাছে অবস্থিত রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিল ওয়াশিংটন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ঘাঁটি থেকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পরিকল্পনা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। তবে ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, কোনো মিত্র দেশের সামরিক অভিযানের দায়ভার ব্রিটেন তখনই নেয় যখন অভিযানের বিস্তারিত আগে থেকে জানানো হয়। কিন্তু এই ঘাঁটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র আগাম তথ্য দিতে বাধ্য না থাকায় স্টারমার সরকার নিজেদের অজান্তে কোনো যুদ্ধে জড়াতে রাজি হয়নি।

এদিকে ইরানকে ১০ থেকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘একটি ভয়াবহ অস্থিতিশীল শাসনের অবসান ঘটাতে ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিটি ব্যবহার করা প্রয়োজন ছিল। হয় বোঝাপড়ায় আসুন, নয়তো খারাপ কিছু ঘটতে চলেছে।’ ট্রাম্পের এই বক্তব্যে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাসনব্যবস্থাকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত কয়েক দিনে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে ৫০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের সীমান্তের কাছে মার্কিন যুদ্ধবিমানের আনাগোনা কয়েক গুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’। সিএনএন ও সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, চলতি সপ্তাহের শেষেই ইরানে হানা দিতে মার্কিন সেনারা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। তবে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরুর বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি।

ইত্তেফাক/এনএন