বায়োমেকানিক্যাল পরীক্ষা হবে সাইফের

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৯, ২১:২৪

স্পোর্টস রিপোর্টার

পিঠের ব্যথায় ভুগছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। যাকে চিকিত্সা বিজ্ঞানের ভাষায় ফ্যাসিট জয়েন্ট পেইন। ইনজেকশন দিয়ে ব্যথা নিবারণের আপাত চেষ্টা হয়েছে। তাতে সফলতা পুরোপুরি আসেনি। সাময়িক ব্যথামুক্ত থাকলেও আবার বোলিং শুরু করতেই ব্যথা ফিরে আসছে সাইফউদ্দিনের।

এ পেস বোলিং অলরাউন্ডারের ইনজুরির গভীরে নজর দিতে চায় বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগ। ব্যথা বারবার ফিরে আসার মূল কারণ বের করতে চেষ্টা করবে বিসিবি। এজন্য সাইফউদ্দিনের বায়োমেকানিক্যাল পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারপরই ঠিক হবে চিকিত্সা পদ্ধতি। বিসিবির প্রধান চিকিত্সক দেবাশীষ চৌধুরী গতকাল নতুন করে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে আগস্টের শেষ দিকেই সাইফউদ্দিন বোলিং শুরু করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন তিনি।

বিসিবির এ অভিজ্ঞ শল্যবিদ গতকাল জানিয়েছেন, বায়োমেকানিক্যাল পরীক্ষা করাতে হবে দেশের বাইরে। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও ভারতে এ পরীক্ষা করা যায়। সাইফউদ্দিনের ইনজুরির বিস্তারিত নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করবে বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগ। তাদের সাড়া পাওয়ার পরই করণীয় ঠিক করা হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শেষ হতে পারে।

সাইফউদ্দিনের ইনজুরি নিয়ে গতকাল দেবাশীষ চৌধুরী বলেছেন, ‘এ সমস্যার যে কারণটা আমাদের নির্ণয় করতে হবে। এটা নির্ণয় করা আমাদের দেশে সম্ভব নয়। এজন্য আমরা চেষ্টা করছি ওকে বাইরে কোথাও পাঠিয়ে ওর বায়োমেকানিক্যাল মূল্যায়ন করার জন্য। কোনো বায়োমেকানিক্যাল সমস্যার জন্য ওর কোমরের বিশেষ কোনো জায়গায় বারবার চাপ পড়ছে কি না সেটা নির্ণয় করতে গেলে আমাদেরকে এ ধরনের স্টেট অফ দ্যা আর্ট ফ্যাসিলিটি আছে এ ধরনের কোনো ইনস্টিটিউটে ওকে পাঠাতে হবে।’

বিসিবির সবুজ সংকেত পেয়ে যোগাযোগ শুরু করতে যাচ্ছেন চিকিত্সকরা। গতকাল দেবাশীষ চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা যোগাযোগ শুরু করেছি। আশা করি আমরা সপ্তাহ খানেকের মধ্যে জানতে পারবো যে আমরা ওকে কোথায় পাঠাচ্ছি বা কি ধরণের অ্যাসেসমেন্ট ওর হবে।’

পুুরো বিষয়টার পরীক্ষার পরই জানা যাবে মূল সমস্যাটা কোথায়। বিসিবির প্রধান চিকিত্সক বরেছেন, ‘এটি তো আসলে একটি পরীক্ষা। অ্যাসেসমেন্টের পর আপনি চাইলে খেলতে পারবেন। আমরা জানতে চাইছি ওর সমস্যাটা কোথায়। তবে এই পরীক্ষাটি আমাদের এখানে হয় না। পরীক্ষাটি বিশেষ কিছু জায়গায় হয় যেখানে আইসিসির কিছু নির্দিষ্ট জায়গা আছে যেমন অস্ট্রেলিয়ায় আছে, যুক্তরাজ্যে আছে, এমনকি ভারতেও আছে। আমরা এদের সবার সঙ্গে চেষ্টা করবো যোগাযোগ করার। যারা আমাদেরকে সাড়া দিবে ওদের সঙ্গে আমরা আগাবো।’

গতকালই বিসিবির সাড়া পেয়েছে মেডিক্যাল বিভাগ। এখন সংশ্লিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি লেখা শুরু হবে।

তবে বিসিবির প্রধান চিকিত্সকের ধারণা, কিশোর বয়স থেকে এই সমস্যায় পড়েছেন সাইফউদ্দিন। তখন সময়ের তুলনায় বেশি বোলিং করেছেন এই তরুণ। যার ফলে তার পিঠের উপর চাপ পড়েছে প্রচন্ড। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট হয়নি বলে এখন সমস্যাটা তীব্র হয়ে ধরা দিয়েছে। এখন চিকিত্সকরা চাইছেন, এমন পদ্ধতি ঠিক করে দিতে যাতে সাইফউদ্দিন ওয়ার্কলোড ম্যানেজ করে নিজের ক্যারিয়ার চালিয়ে যেতে পারেন।