স্পোর্টস ডেস্ক
বিরাট কোহলি কোচ হিসেবে রবি শাস্ত্রীতেই আস্থা। কোচ নিয়োগের দায়িত্ব যাদের হাতে সেই ক্রিকেট অ্যাডভাইজরি কমিটির (সিএসি) প্রধান কপিল দেবও জানিয়েছেন, অধিনায়কের মতামতকে গুরুত্ব দেবেন তারা। এই দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে বলে দেওয়া যায় যে, ভারতের প্রধান কোচের পদটা রবি শাস্ত্রীর ধরে রাখার সম্ভাবনাই বেশি।
যদিও, এর সঙ্গে একমত নন সাবেক পাকিস্তানি স্পিডস্টার শোয়েব আখতার। তিনি মনে করেন, নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া উচিত ভারতের। তিনি বলেন, ‘এখন বিরাট কোহলির দরকার একজন ভালো কোচ। যে কোহলির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে। সেই সঙ্গে দরকার খুব ভালো নির্বাচক কমিটি। যাদের সঙ্গে কোহলির ভালো বোঝাপড়া হবে। কোচ এবং নির্বাচন কমিটি ভালো হলে কোহলির কাজ আরো সহজ হবে, এতে আরো ভালোভাবে নেতৃত্ব দিতে পারবে সে।’
নেতৃত্বের পরিবর্তনকে জরুরি মনে করেন না শোয়েব। তিনি বলেন, ‘রোহিত ভালো অধিনায়ক, সেই ব্যাপারে আমার কোনো সন্দেহ নেই। আইপিএল ও কিছু আন্তর্জাতিক ম্যাচে অধিনায়ক হিসেবে ভালো করেছে সে। তবে আমার মতে, কোহলিকে ভারতের অধিনায়ক হিসেবে রেখে দেওয়াই সঠিক হবে। কোহলিকে নেতৃত্ব থেকে সরানো উচিত হবে না ভারতের। ভবিষ্যতে ভারতকে আরো সাফল্য এনে দিতে পারবে কোহলি।’
ভারতের নতুন কোচ কে হবেন, সেটা জানতে আরো মাসখানেক সময় লাগবে। আপাতত শাস্ত্রী, বোলিং কোচ ভারত অরুণ, ব্যাটিং কোচ সঞ্জয় ব্যাঙ্গার ও ফিল্ডিং কোচ এস শ্রীধরের মেয়াদ ৪৫ দিন বাড়ানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরকে সামনে রেখে। সিরিজ চলবে আগামী তিন সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ভারত নিজেদের মাটিতে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ শুরু করবে। এর আগেই কোচের নাম ঘোষণা করে দেবে বিসিসিআই।
কোচ শাস্ত্রী ও তার বর্তমান সহকর্মীরা সরাসরি সাক্ষাত্কার দেওয়ার সুযোগ পাবেন বিসিসিআইয়ের ক্রিকেট অ্যাডভাইজরি কমিটির (সিএসি) কাছে। তিন সদস্যের কমিটিতে আছেন বিশ্বকাপজয়ী প্রথম ভারতীয় অধিনায়ক কপিল দেব, সাবেক ওপেনার ও কোচ অংশুমান গায়কোড় ও ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের প্রথম অধিনায়ক শান্তা রঙ্গস্বামী।
কোচের আবেদনের লম্বা তালিকা থেকে বাছাই করা কয়েকজনের সাক্ষাত্কার নেবে সিএসি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে সাক্ষাত্কারগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
জানিয়ে রাখা ভালো, এর আগে এই কমিটির দায়িত্বে ছিলেন শচিন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলি ও ভিভিএস লক্ষ্মণ। তারাই ২০১৬ সালে অনিল কুম্বলে ও এক বছর বাদে শাস্ত্রীকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ২০১৭ সালে সাবেক কোচ অনিল কুম্বলের বিদায়ের পর জুলাইয়ে কোহলিদের পছন্দের ভিত্তিতেই প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন শাস্ত্রী।
শাস্ত্রী এর আগেও ২০১৪র আগস্ট থেকে ২০১৬র জুন পর্যন্ত দলের ক্রিকেট পরিচালক ছিলেন। তার অধীনে ভারত ওয়ানডেতে অনেক বড়ো কোনো সাফল্য না পেলেও ধারাবাহিক ভাবে পারফরম করে গেছে। তবে, শাস্ত্রীর সবচেয়ে বড়ো অর্জন হলো প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভারতকে টেস্ট সিরিজ জেতানো।
