ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এক মন্তব্যে জানিয়েছেন, ইসরায়েল যদি মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ অঞ্চল দখল করে নেয়, তবে তাতে তার কোনো আপত্তি থাকবে না। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রক্ষণশীল ভাষ্যকার টাকার কার্লসনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইহুদি জনগণের অধিকারের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এই মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে হাকাবি দাবি করেন, ইসরায়েলের ভৌগোলিক সীমানা বাইবেল দ্বারা নির্ধারিত। কার্লসন যখন তাকে ইরাকের ইউফ্রেটিস নদী থেকে মিশরের নীল নদ পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের (যাতে বর্তমান লেবানন, সিরিয়া, জর্ডান ও সৌদি আরবের অংশ অন্তর্ভুক্ত) কথা মনে করিয়ে দেন, তখন হাকাবি বলেন, তারা যদি এই সবটা নিয়ে নেয়, তবে তা ঠিক আছে।
পরবর্তীতে তিনি এই বক্তব্যকে কিছুটা অত্যুক্তি হিসেবে বর্ণনা করে কিছুটা সরে আসার চেষ্টা করলেও ইসরায়েলি সম্প্রসারণবাদের পথ খোলা রাখেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল যদি আক্রান্ত হয় এবং যুদ্ধের মাধ্যমে সেই ভূমি দখল করে নেয় তবে সেটি ভিন্ন আলোচনার বিষয়।
হাকাবির এই অবস্থান আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী, যেখানে জোরপূর্বক ভূমি দখল নিষিদ্ধ। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক আদালত (আইসিজে) ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। তা সত্ত্বেও হাকাবি আইসিসি এবং আইসিজে-এর মতো সংস্থাগুলোকে উচ্ছৃঙ্খল সংস্থা হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের সমালোচনা করেন।
উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র দেশ যারা সিরিয়ার গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালে হিজবুল্লাহর সাথে যুদ্ধের পর লেবাননের ভেতরেও ইসরায়েল পাঁচটি সামরিক ফাঁড়ি স্থাপন করেছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ইতিপূর্বেই গ্রেটার ইসরায়েল বা বৃহত্তর ইসরায়েলের ধারণা প্রচার করেছেন। বিশেষ করে স্মোট্রিচ এক মানচিত্রে ফিলিস্তিন, জর্ডান, সিরিয়া ও লেবাননের অংশকে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত দেখিয়ে আন্তর্জাতিক নিন্দার মুখে পড়েছিলেন।
রাষ্ট্রদূত হিসেবে হাকাবি ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত বা বন্দি মার্কিন নাগরিকদের পক্ষে কথা না বলায় সমালোচিত হয়েছেন। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের গোপন তথ্য ইসরায়েলের কাছে পাচারের দায়ে দণ্ডিত গুপ্তচর জোনাথন পোলার্ডের সাথে জেরুজালেমের মার্কিন দূতাবাসে বৈঠক করায় তিনি নিজ দেশের রক্ষণশীলদেরও ক্ষোভের মুখে পড়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
