লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত বাউফলের জহিরুল, প্রয়োজন আর্থিক সহায়তা

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৫৪

চিকিৎসার অভাবে ধীরে ধীরে নিভে যাচ্ছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার জহিরুল ইসলাম (৩১) নামের এক যুবকের জীবনপ্রদীপ। লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত এই যুবকের বাঁচা-মরার লড়াই এখন নির্ভর করছে মানুষের সহানুভূতি ও মানবিক সহায়তার ওপর।

জহিরুল ইসলাম বাউফল উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলতাফ হোসেনের ছেলে। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার জহিরুল ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। চার বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর তিনিই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। মাকে নিয়ে স্বাভাবিক জীবনই কাটছিল তার।

কিন্তু ২০২৫ সালের শুরুতেই সবকিছু ওলটপালট হয়ে যায়। হঠাৎ জ্বর, তীব্র পেটব্যথা, আমাশয় ও শারীরিক দুর্বলতায় ভেঙে পড়েন তিনি। স্থানীয় চিকিৎসক থেকে শুরু করে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েও অবস্থার উন্নতি হয়নি। একপর্যায়ে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাবেক পিজি) ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাসের শরণাপন্ন হন। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, তিনি লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় দুই মাস চিকিৎসা নিলেও অবস্থার অবনতি ঘটে। চিকিৎসকরা তাকে ভারতের হায়দরাবাদের একটি ক্যান্সার হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে ভিসা জটিলতায় সেই সুযোগও হাতছাড়া হয়।

শেষ আশায় গত ২৬ আগস্ট জহিরুল চিকিৎসা নেন চীনের ফুদা ক্যান্সার হাসপাতালে। সেখানে এক মাসের চিকিৎসায় ব্যয় হয় প্রায় ৩২ লাখ টাকা। এই বিপুল অর্থ জোগাড় করতে পরিবারকে বিক্রি করতে হয়েছে তাদের একমাত্র বসতভিটা। তবুও চিকিৎসা সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। শেষ হয়ে গেছে সব সঞ্চয় ও সম্বল।

বর্তমানে অসুস্থ শরীর ও ভাঙা স্বপ্ন নিয়ে জহিরুল আশ্রয় নিয়েছেন বাউফল উপজেলার চন্দ্রপাড়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বোনজামাই মনজুরুল আলমের বাড়িতে। চিকিৎসকদের মতে, আরও তিনটি কেমোথেরাপি, নিয়মিত ওষুধ এবং পুনরায় চীনে চিকিৎসা নিতে পারলে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু অর্থাভাবে কেমোথেরাপি তো দূরের কথা, প্রতিদিনের ওষুধও কিনতে পারছেন না তিনি। প্রতিদিন শুধু ওষুধের পেছনেই প্রয়োজন প্রায় ৩ হাজার ২০০ টাকা।

ছেলের শয্যার পাশে বসে মা মমিন নেচ্ছা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “চোখের সামনে আমার ছেলেটা ধীরে ধীরে মরে যাচ্ছে। আমি একজন মা হয়ে কিছুই করতে পারছি না। সরকার বা কোনো হৃদয়বান মানুষ যদি পাশে দাঁড়ান, তাহলে হয়তো আমার সন্তানটা আবার বাঁচার সুযোগ পাবে।”

এক সময়ের কর্মঠ ও হাসিখুশি এই যুবক এখন নিঃশব্দে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। মানবিক সহানুভূতির অপেক্ষায়। সমাজের বিত্তবান ও দয়ালু মানুষের সামান্য সহায়তাই ফিরিয়ে দিতে পারে একটি প্রাণ।

জহিরুল ইসলামের চিকিৎসার জন্য সহায়তা পাঠাতে আগ্রহীরা সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, পান্থপথ শাখা, ঢাকা—
হিসাব নম্বর: ০০৫০১২০০১২৯০৪ (হিসাব নাম: জহিরুল ইসলাম)
এছাড়া বিকাশ ও নগদ নম্বর: ০১৮৫৫৭৭৮৯৬৮-এ অনুদান পাঠানো যাবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি