নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের কাজহরদী গ্রামে কৃষিজমির মাটি ইটভাটায় নেওয়া নিয়ে গ্রামবাসী ও মাটি ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কাজহরদী গ্রামের বানিয়াপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। আহতদের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজহরদী এবং পাশের বন্দর উপজেলার কেওঢালা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একাধিক ইটভাটা চালু রয়েছে। ভাটার জন্য মাটি সংগ্রহে প্রভাবশালী একটি চক্র রাতে ভেকু দিয়ে আশপাশের কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যায়। এতে ফসলি জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জমির পাড় ভেঙে কৃষকদের ক্ষতি হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, কোথাও জমির মালিকদের কাছ থেকে মাটি কিনে নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে জোরপূর্বক মাটি কাটা হয়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। শনিবার রাতে মাটি কাটতে গেলে গ্রামবাসী বাধা দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়ে একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
আহত কবির অভিযোগ করেন, হানিফ, মহাসিন, শারজাহান ও শানুর নেতৃত্বে সশস্ত্র লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। তবে অভিযুক্তরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। শারজাহান দাবি করেন, প্রথমে গ্রামবাসী তাদের মোটরসাইকেল ও ভেকু ভাঙচুর করে, পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
তালতলা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মারামারির সত্যতা পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোনারগাঁ থানা পুলিশ–এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুহিবুল্লাহ বলেন, এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
