ফের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইরান

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪০

গণবিক্ষোভের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ফের বিক্ষোভ শুরু ইরানে। এবার ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিরুদ্ধে শুরু হলো ছাত্রবিক্ষোভ। ইরানের বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবার বিক্ষোভ শুরু হয়। সরকারপন্থি গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে কয়েক জায়গায় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। গত মাসের প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের পর এ ধরনের সমাবেশ এটিই প্রথম।

শনিবার রাজধানী তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির ক্যাম্পাসে বিক্ষোভকারীদের মিছিল করার ভিডিও তারা যাচাই করে দেখেছে। পরে তাদের সঙ্গে সরকার সমর্থকদের সংঘর্ষের দৃশ্যও দেখা গেছে। তেহরানের আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান ধর্মঘট পালিত হয়েছে এবং উত্তর-পূর্বে একটি সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে। 

শিক্ষার্থীরা জানুয়ারিতে গণবিক্ষোভে নিহত হাজার হাজার ব্যক্তিকে সম্মান জানায়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছাকাছি সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি সীমিত সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের সন্দেহ ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যদিও ইরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এ অবস্থায় ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক চাপ আর সামরিক তত্পরতার মুখে তেহরান মাথা নত করবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, বিশ্বশক্তিগুলো আমাদের মাথা নত করাতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। কিন্তু তারা আমাদের জন্য যত সমস্যাই সৃষ্টি করুক না কেন, আমরা মাথা নত করব না। এদিকে, সাম্প্রতিক দেশব্যাপী বিক্ষোভে হাজারো মৃত্যুর জন্য আবারও সন্ত্রাসীদের দায়ী করেছে ইরান সরকার।

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ৩ হাজারের বেশি নিহতের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২০০ জনই নিরাপত্তা সদস্য। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, প্রয়োজনে ইরানে সীমিত পরিসরে সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করছে তারা। এর মধ্যেই, কাতারের আল উদেইদ মার্কিন বিমান ঘাঁটি থেকে শত শত মার্কিন সেনাকে সরিয়ে নিচ্ছে পেন্টাগন। ইরানের পালটা হামলা থেকে বাঁচতেই এমন পদক্ষেপ বলে ধারণা স্থানীয় গণমাধ্যমের।

ইত্তেফাক/এসআর