ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে চলাচল করছে বিভিন্ন পরিবহনের সিটিং সার্ভিস বাস। সাভার থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব যানবাহনে চলাচল করছে সাধারণ যাত্রীরা। এসব বাসের অধিকাংশেরই নেই ফিটনেস। চালকরাও অল্পবয়স্ক কিশোর যুবক, যাদের সিংহভাগেরই নেই কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স। ফলে বিভিন্ন সময়ে ঘটছে দুর্ঘটনা।
অতি উত্সাহী অল্পবয়সি কিছু চালক অন্য কোম্পানির গাড়ির আগে সামনের স্টপেজে পৌঁছে যাত্রী তোলার জন্য বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালায়। অনেক সময় যা দুই বা ততোধিক গাড়ির প্রতিযোগিতায় রূপ নেয়। ফলে প্রতিনিয়তই এ মহাসড়কে ঘটছে ছোটো-বড়ো দুর্ঘটনা।
এ রুটে কয়েক দফায় গাড়িভাড়া বাড়লেও যাত্রীসেবা বৃদ্ধি পায়নি। এছাড়া সড়কে অনুমোদনবিহীন একাধিক বাস সার্ভিস চলাচল করছে বলেও একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। যখন যেখানে খুশি গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানোর ফলে ব্যস্ততম এ মহাসড়কে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মুহূর্তেই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। গাড়িতে আসনের দ্বিগুণ যাত্রী দাঁড় করিয়েও ‘সিটিং’ বাসের ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। পূর্বনির্ধারিত ভাড়ার বেশি টাকা পরিশোধে কেউ আপত্তি করলে তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
ব্যস্ততম এ মহাসড়কে যাত্রী পরিবহনের জন্য বেশ কয়েকটি কোম্পানির বাস চলাচল করে থাকে। এর মধ্যে মতিঝিল-সাভার-চন্দ্রা রুটে চলে ওয়েলকাম পরিবহন, মিরপুর-সাভার-চন্দ্রা রুটে চলে ইতিহাস পরিবহন, সদরঘাট-সাভার-চন্দ্রা রুটে চলে গ্রামীণ স্পেশাল, গুলশান-গাবতলী-সাভার রুটে চলে বৈশাখী পরিবহন, সাভার-মালিবাগ-সায়েদাবাদ রুটে চলে লাব্বাইক পরিবহন এবং যাত্রাবাড়ী-নিউমার্কেট-সাভার রুটে চলে ঠিকানা পরিবহন। গাড়িগুলো ‘সিটিং বাস’ নামে রাস্তায় নামানো হলেও বর্তমানে সব বাসই কার্যত লোকাল বাস।
মালিকরা আরামদায়ক যাত্রীসেবার কথা বলে যাত্রা শুরুর প্রাক্কালে এ রুটের অন্য গাড়ির চেয়ে বেশি ভাড়া নির্ধারণ করে। কিছুদিন পর গাড়িগুলো লোকাল পরিবহনের মতোই সেবা প্রদান করলেও ভাড়া আর কমায়নি।
যাত্রীদের অভিযোগ, এক কোম্পানির গাড়ি অন্য কোম্পানির গাড়ির আগেই যাতে সামনের বাস স্টপেজে পৌঁছে বেশি যাত্রী বাসে তুলতে পারে সেজন্য সবসময়ই চালকরা প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকেন। এমনকি একই কোম্পানির গাড়ির চালক ও হেলপারদের মধ্যেও এ প্রতিযোগিতা চলে। তাই এক গাড়ি অন্য গাড়িকে ওভারটেক করতে দিতে চায় না। ফলে উভয় গাড়ির রেষারেষিতে মহাসড়কে ভয়ংকর এক মরণ খেলায় লিপ্ত হয় বেপরোয়া চালকরা।
সাভার থেকে নিয়মিত রাজধানীতে যাতায়াতকারী মো. আতিক জানান, যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রীদের ওঠানামা বা নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো নির্দিষ্ট গন্তব্যে না গিয়ে ড্রাইভার-হেলপাররা ইচ্ছামতো রাস্তার মাঝপথে গাড়ি থামিয়ে দেয়। বাস বিকল হওয়ার অজুহাত তুলে যাত্রীদের হয়রানি করা নিত্যদিনের ঘটনা। প্রায় সব বাসেই অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানোর ফলে অনেককেই দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যেতে হয়, কিন্তু ভাড়া নেওয়া হয় সিটিং সার্ভিসের। বাসে প্রতিবন্ধী ও মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট সিট বরাদ্দ থাকলেও তার সঠিক ব্যবহারে চেকার, হেলপার ও ড্রাইভারের কোনো মাথাব্যথা নেই। সিটিং সার্ভিসে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানো হলেও চেকার তার চেকিংবুকে যাত্রীর সংখ্যা কম উল্লেখ করে। আর এর বিনিময়ে প্রতি স্টপেজে চেকারকে ১০ টাকা করে বকশিশ দেয় বাসের হেলপার। ফলে নামে সিটিং সার্ভিস হলেও বাস্তবে তা ‘চিটিং সার্ভিসে’ পরিণত হয়েছে। কেউ এসবের প্রতিবাদ করলেই আর রক্ষা নেই তার, অশ্রাব্য গালিগালাজ এমনকি শারীরিক নির্যাতনেরও শিকার হতে হয়। ঢাকা থেকে ফেরার পথে বা আশুলিয়া ও ধামরাই থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে এসব সার্ভিসের সব বাসই লোকাল হয়ে যায়। অথচ ভাড়া নেওয়া হয় বিরতিহীনের।
ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আবুল হোসেন বলেন, স্বল্প জনবল নিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যানজট নিরসনেই হিমশিম খেতে হয়। তার পরও ফিটনেসবিহীন গাড়ি পেলে আটক করা হয়। অচিরেই ফিটনেস ও কাগজপত্রবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
