জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় কাশ্মিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:২৩

জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় ভারত সরকার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে কাশ্মিরে। এরই মধ্যে গতকাল ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও গোয়েন্দা প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে গোয়েন্দারা জানান, সীমান্তে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে পুলওয়ামার মতো হামলার পরিকল্পনা হচ্ছে। এজন্য সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি পর্যটক ও অমরনাথের তীর্থযাত্রীদের কাশ্মির ছাড়তে বলা হয়েছে। পাকিস্তান সীমান্তে বিমান বাহিনী ও সেনা ঘাঁটিতে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে দিল্লি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কাশ্মির ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে মধ্যস্থতা করার আহবান জানিয়েছেন। খবর বিবিসি ও আনন্দবাজার পত্রিকার

সোশ্যাল মিডিয়ায় দুটি সম্ভাবনা নিয়ে জোরালো আলোচনা চলছে। এক, বিজেপির বহু পুরনো নীতি অনুসারে সংবিধানের যে ৩৭০ ধারা কাশ্মিরকে বিশেষ মর্যাদা দেয় তা অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে রাতারাতি বিলোপ করা। আর দুই, রাজ্যটিকে জম্মু, কাশ্মির ও লাদাখ-এই তিনভাগে ভাগ করা যাতে কাশ্মিরের স্বতন্ত্র স্বীকৃতি আপনা থেকেই বাতিল হয়ে যায়। যদিও শনিবার রাজ্যপাল এই ধরনের গুঞ্জন নাকচ করে দিয়েছিলেন। তবে গতকাল কাশ্মিরে সর্বদলীয় বৈঠক হয়েছে। সেখানে ন্যাশনাল কনফারেন্স, কংগ্রেস, পিডিপি, আওয়ামী ন্যাশনাল কনফারেন্স, জম্মু ও কাশ্মির পিপলস্ কনফারেন্স, জম্মু ও কাশ্মির পিপলস্ মুভমেন্ট এবং সিপিআই (এম) নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে পরিণতি ভাল হবে না। 

গত কয়েক দিনে কাশ্মিরে প্রায় বাড়তি পঞ্চাশ হাজার সেনা মোতায়েন এবং তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ার পর তীব্র আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দিল্লিতে ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজের প্রধান সাবেক মেজর জেনারেল দীপঙ্কর ব্যানার্জিও বিশ্বাস করেন, কাশ্মিরে অবশ্যই বড় কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। যদিও সেটা ঠিক কিনা জানা নেই। এদিকে অনুপ্রবেশের অভিযোগ অস্বীকার করে ভারতের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন, মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। টুইটার বার্তায় ইমরান খান বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কাশ্মির ইস্যুতে মধ্যস্থতা করতে চেয়েছিলেন। সেটা করার এটাই সময়। কারণ ভারতীয় সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকলাপে নিয়ন্ত্রণরেখায় পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। আঞ্চলিক সমস্যা এতে আরো বাড়বে।