আগামী বছর আরো নতুন আলোচনার দিগন্ত নিয়ে উপস্থিত হওয়ার আশাবাদ জানিয়ে শেষ হলো ঢাকা লিট ফেস্ট। লিট ফেস্ট থেকে যা প্রাপ্তি তা থেকে আগামীর পৃথিবীকে সুন্দর করে গড়ে তুলবার প্রত্যাশা জানালেন আয়োজকরা। গতকাল শেষ দিনে ২৯ টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সকালে মনীষা কৈরালার ক্যান্সার জয়ের গল্পে আলোড়িত হয়েছে ঢাকা লিট ফেস্ট। গতকাল আন্তর্জাতিক সাহিত্য আসরের সমাপনী দিনটি স্মরণীয় করে রাখলেন এই বলিউড অভিনেত্রী। বিকালে ছিল ভারতের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের কথোপকথন। এছাড়া সকাল থেকে রাত অবধি কবিতা আবৃত্তি, লেখকের স্বাধীনতা, ‘বাংলা সাহিত্য: নারী ও পুরুষ’ শীর্ষক নানা অধিবেশনে শেষ হয়েছে তিন দিনের সাহিত্য উত্সব। সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বক্তব্যে আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোন উত্তাপ নেই বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।
বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আমার মনে হয় বাংলাদেশে আমাদের রাজনৈতিক জীবনে উত্থান-পতন আছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের বাতাস আমরা সংস্কৃতি এবং সাহিত্যের পালে লাগতে দেই না। নির্বাচন আমাদের খুব সন্নিকটে, পরিবেশ খুব ভালো এবং শান্ত। যারা এখানে বিদেশি অতিথিরা এসেছেন তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, আপনারা কি বুঝতে পেরেছেন যে দেশে ইলেকশন সামনে? দেয়ার ইজ নো ইলেকশন ফিভার, অ্যান্ড ইট ইজ গুড। এর মানে হলো আমরা ভালো আচরণ করছি এবং ডিসেম্বরেই নির্বাচন হবে। সমাপনী অধিবেশনে বক্তব্য দেন অস্কারজয়ী ব্রিটিশ অভিনেত্রী টিল্ডা সুইন্টন ও উত্সব পরিচালক সাদাফ সায।
শেখ হাসিনাকে নিয়ে ৭১ কবিতাঃপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭১তম জন্মদিন উপলক্ষে গল্পকার থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাকে নিয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লেখা কবিতার সংকলন ‘পিস অ্যান্ড হারমনি : সেভেন্টি ওয়ান পোয়েমস ডেডিকেটেড টু শেখ হাসিনা’। কাব্যগ্রন্থটি নিয়ে কসমিক টেন্টে আলোচনা করেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, মুহাম্মদ সামাদ, কামাল চৌধুরী, আবুল আজাদ, সংকলনের সম্পাদক আহমেদ রেজা, সংকলনের ইংরেজি অনুবাদক আনিস মুহাম্মদ প্রমুখ।
সাহিত্যে ‘মি টু’ আন্দোলনের প্রভাবঃ সাহিত্যে হ্যাশট্যাগ মি টু’ আন্দোলনের প্রভাব নিয়ে ‘নো নোবেল: মি টু ইন লিটারেচার’ শীর্ষক আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন জার্মান লেখক ওলগা গ্রাসনোয়া, ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক অধ্যাপক ফিলিপ হেনশার, ব্রিটিশ লেখক রিচার্ড বিয়ার্ড, আমেরিকান লেখক রস পটার এবং ভারতীয় লেখক ও সমাজকর্মী হিমাঞ্জলি শংকর।
‘প্যারাসাইটস লাইক আসঃ পুলিত্জারজয়ী সাহিত্যিক অ্যাডাম জনসনের প্রথম উপন্যাস ‘প্যারাসাইটস লাইক আস’। এ শিরোনামে আলোচনা করেন অ্যাডাম জনসন ও ফিলিপ হেনশার এক হন। সঞ্চালনায় ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক মন্ময় জাফর।
ভাষার বৈচিত্র্য বিষয়ক আলোচনাঃ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট এবং লিঙ্গুইস্টিকস সার্ভে অব বাংলাদেশের যৌথ গবেষণায় প্রকাশিত হতে যাওয়া ২০ খন্ডের ভাষা বিষয়ক গবেষণা গ্রন্থ নিয়ে, ভাষার বৈচিত্র্য নিয়ে কথা বলেন কবি কামাল চৌধুরী, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক জীনাত ইমতিয়াজ আলী এবং ভাষা গবেষক সৌরভ শিকদার।
‘এখনও কেন কবিতা’ঃ এখনও কেন কবিতা’ শিরোনামের আলোচনায় অংশ নেন কবি আসাদ চৌধুরি, রুবি রহমান, পশ্চিমবঙ্গের সুমন গুণ এবং ড. নিখিলেশ রায়। সঞ্চালনা করেন কবি শামীম রেজা।
সকাল দশটায় উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ছিলো আসলাম সানীর সঞ্চালনায় ‘কিশোর মনন ও আবৃত্তি’। বেলা সাড়ে বারোটায় কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে ছিলো ‘ডেডলি লিগাসি অব ইন্ডিয়াস পার্টিসন’ শিরোনামের অধিবেশন। এতে মাহ্্রুখ মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় আলোচনা করেন নিশিদ হাজারি। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ছিলো কবিতা পাঠের আসর ‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি’। এ পর্ব সঞ্চালনা করেন হাসান মাহমুদ। নভেরা প্রদর্শনালয়ে ছিলো ‘পেন : লেখকের মুক্তি, লেখার স্বাধীনতা’ শিরোনামের অধিবেশন। বিকাল সাড়ে চারটায় আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ছিলো ‘রাইটস ইন দ্যা এইজ অব ফেক নিউজ’ শিরোনামের অধিবেশন। এতে সঞ্চালনা করেন চন্দ্রহাস চৌধুরী। আলোচনা করেন ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক জাফর সোবহান, আফসান চৌধুরী, হুগো রেস্টল ও অ্যানি জায়েদি। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ছিলো ‘ছয় নারী’ শিরোনামের অধিবেশন। এতে সঞ্চালনা করেন জ্যাকি কবির। অংশ নেন ফরিদা হোসেন, শাহনাজ মুন্নী, জাহানারা পারভীন, আফরোজা সোমা ও সাকিরা পারভীন। কসমিক টেন্টে ছিলো ‘রোহিঙ্গা : সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স টেস্টিমোনিস’ শিরোনামের অধিবেশন। এতে সঞ্চালনা করেন উত্সবের অন্যতম পরিচালক সাদাফ সায। আলোচনা করেন রাজিয়া সুলতানা, শিরিন হক, গুয়েন রবিনসন ও মারিয়াম মোল্লা।
তিন নারী বাউল ফকির আকলিমা, কোহিনূর আক্তার গোলাপি ও সূচনা শেলীর পরিবেশনার মাধ্যমে শেষ হয় ঢাকা লিট ফেস্টের অষ্টম আসর।
