ভূমিকম্পের পর খসে পড়লো পলেস্তরা, আতঙ্কে রোগী নিয়ে হাসপাতালের বাইরে স্বজনরা

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৬, ১৯:৪২

বরগুনার আমতলীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরাতন ভবনের একটি পিলারের পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনায় ওই হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও স্বজনদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় অর্ধশতাধিক রোগী ও তাদের স্বজনরা হাসপাতাল ত্যাগ করে বাইরে অবস্থান নেন। ফাটল ধরা পিলার ধসের শঙ্কায় সেই রাতে রোগী ও স্বজনরা কেউ আর ওয়ার্ডে ফিরে যাননি বলে জানা গেছে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে পলেস্তারা ধসে পড়ার ঘটনা ঘটে। এর আগে শুক্রবারের ভূমিকম্পে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। এরপর রাতে সেখানে একটি পিলার থেকে পলেস্তরা খসে পড়ার ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে ভবনধস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে নির্মিত এই ভবনেই দীর্ঘ প্রায় ৩৭ বছর ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। শুক্রবারের ভূমিকম্পে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। শনিবার রাতে দ্বিতীয় তলার একটি পিলারের (টপ বিম) অংশ ভেঙে নিচে পড়ে এক রোগীর গায়ে লাগে। এতে ওয়ার্ডে হট্টগোল শুরু হয় এবং মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খেকুয়ানী গ্রামের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর মা তানিয়া বেগম বলেন, ‘হঠাৎ করে বিকট শব্দ হয়। দেখি ছাদের পলেস্তারা পড়ে গেছে। সবাই ভয় পেয়ে বাইরে চলে যায়। আমিও বাচ্চাকে নিয়ে রাতভর বাইরে ছিলাম।’

ছোট নীলগঞ্জ গ্রামের রোগী মোর্শ্বেদা জানান, ভবন থেকে চরচর শব্দ শুনে দৌড়ে নিচে নেমে যাই। পরে দেখি প্রায় সব রোগীই বাইরে চলে এসেছে।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ওয়ার্ড ইনচার্জ মোসা. মোর্শ্বেদা বেগম বলেন, ‘ফাটা অংশ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে এক রোগী সামান্য আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার বলেন, ভূমিকম্পে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। শনিবার রাতে দ্বিতীয় তলার একটি বিমের অংশ ভেঙে পড়ে। বিষয়টি বরগুনা সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগকে জানানো হয়েছে।’

বরগুনা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা জেনেছি। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন হলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।’

ইত্তেফাক/এএস/এপি