ইরানে চলমান রক্তক্ষয় বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছাতে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সোমবার (২ মার্চ) আঙ্কারায় নিজ দলের সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এরদোয়ান বলেন, ‘আমরা শান্তির পক্ষে। আমরা চাই এই রক্তপাত বন্ধ হোক, অশ্রু বিসর্জন থেমে যাক এবং আমাদের এই অঞ্চলটি অবশেষে সেই দীর্ঘস্থায়ী শান্তিতে ফিরে আসুক, যার জন্য বছরের পর বছর ধরে আর্তনাদ চলছে।’ পবিত্র রমজান মাসে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে কোনো ধরনের সংঘাত বা যুদ্ধ তুরস্ক কাম্য করে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখলেও এরদোয়ান গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানে চালানো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলাকে ‘অবৈধ’ এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, যুদ্ধবিরতি এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তুরস্ক সব স্তরে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করবে।
সংঘর্ষে ইরানের বেসামরিক নাগরিক ও নিরপরাধ শিশুদের দুর্ভোগে গভীর শোক প্রকাশ করে এরদোয়ান বলেন, ‘ইরানি জনগণের এই যন্ত্রণায় তুরস্ক সমব্যথী। এই আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নেভানো প্রয়োজন।’ উল্লেখ্য, গত শনিবারের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার ঘটনায়ও এরদোয়ান শোক প্রকাশ করেছেন।
ন্যাটো সদস্যভুক্ত দেশ তুরস্কের সঙ্গে ইরানের প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অস্থিতিশীলতা তুরস্কের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে শুরু থেকেই এরদোয়ান সরকার সংযম প্রদর্শন এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

