n নওশীন শর্মিলী
একজন মানুষের ব্যক্তিত্বের অনেকটাই প্রকাশ করে তার পোশাক। সে জন্য পরনের কাপড় অবশ্যই হওয়া চাই পরিষ্কার ও পরিপাটি। তবে কর্মজীবনের ব্যস্ততার কারণে হয়তো সবার নিয়মিত কাপড় ধোয়াটা সম্ভব হয় না। আবার রাজধানীতে বাসিন্দারা সব সময় বিশ্বস্ত গৃহকর্মীও পান না। সেইসঙ্গে কাপড় কাচা, ধোয়া ও শুকানো অনেকের কাছেই বিরক্তিকর একটি বিষয় বটে। এতে সময়ের অপচয়ও কম নয়। তাই ইদানীং নাগরিক জীবনে ঝামেলা ছাড়াই কাপড় ধোয়া ও শুকানোর জন্য চাহিদা বাড়ছে ওয়াশিং মেশিনের। কর্মব্যস্ত মানুষের জীবনকে আরো সহজ করতেই এই মেশিন। ওয়াশিং মেশিনকে এখন কেউ বিলাসিতা হিসেবে দেখেন না, বরং এটাকে প্রয়োজন বলা যায়। উত্সবের সময় দেখা যায়, বাসার ভারী কাপড় যেমন—ঘরের পর্দা, বিছানার মোটা চাদর, সোফার কাভার ধোয়ার চাদিহা বাড়ে। যা কষ্টসাধ্য বটে। তাই এসব ভারী কাপড় ওয়াশিং মেশিনে ধোয়া ভালো। আর যারা সাদা কাপড় পরতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য ওয়াশিং মেশিন ব্যবহার জরুরি। কেননা ধবধবে সাদার কাপড় ধোয়ার জন্য এই মেশিনের কদর করতেই হবে। এ ছাড়া ওয়াশিং মেশিনে কাপড় ধোয়া হলে যেকোনো দাগ সহজেই দূর হয়ে যায়। বাজারে তিন ধরনের ওয়াশিং মেশিন পাওয়া যায়। এগুলো হলো অটোমেটিক, সেমি অটোমেটিক ও ম্যানুয়াল। বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে সব ওয়াশিং মেশিন আবার দুই ধরনের টপ লোডিং ও ফ্রন্ট লোডিং। অটোমেটিক মেশিন কাপড় ধোয়ার সময় প্রয়োজন অনুযায়ী পানি নিজেই নিয়ে নেয়। ধোয়া শেষে পানি ঝরিয়ে কাপড় শুকিয়ে দেয়। সেমি অটোমেটিক মেশিনে কাপড় ধোয়ার সময় ব্যবহারকারীকে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি দিতে হয়। এই মেশিনও কাপড় ধোয়ার পর পানি ঝরিয়ে শুকিয়ে দেয়। অটোমেটিক মেশিনে কাপড় ধোয়া সহজ। কাপড় দিয়ে স্টার্ট বাটনটি চাপলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাপড়ের পরিমাণ অনুযায়ী পানি নিয়ে ধোয়ার কাজ শুরু করে। কাপড় শুকিয়েও যায়। কাজ শেষ হলে যন্ত্রটি থেমে যায়। অন্যদিকে সেমি অটোমেটিক ও ম্যানুয়াল ওয়াশিং মেশিনে ব্যবহারকারীকে নির্দিষ্ট বাটন চেপে নির্দেশনা দিতে হয়। আপনি সিঙ্গার, ট্রান্সটেক, স্যামসাং, ওয়ালপুল, প্যানাসনিক, এলজি, সনি-র্যাংগস, ভিশন, ওয়ালটনসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আউটলেট থেকে পছন্দনই ওয়াশিং মেশিন কিনতে পারবেন। বিভিন্ন সাইজের ওয়াশিং মেশিনের দাম পড়বে ২৫ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা। রয়েছে কিস্তি সুবিধাও। এ ছাড়া নিউমার্কেট, যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা সিটি, মৌচাক মার্কেট, রামপুরা, যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, পুরান ঢাকার বিভিন্ন মার্কেটে আরো নানা ব্র্যান্ডের ওয়াশিং মেশিন পাওয়া যায়।
কা প ড় ধো য়া র নি য় ম
সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কাপড় পরিষ্কারের পদ্ধতিতেও কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। নিয়মিত কাপড় পরিষ্কার করলেও অনেক সময় কাপড় তার উজ্জ্বলতা হারাতে পারে। তবে পরিষ্কারের সময় একটু সতর্ক থাকলেই আপনার কাপড়ে হারানো উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য জেনে রাখুন কয়েকটি টিপস—
n রঙিন জামা কাপড় বেশিক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন না। অন্য জামা-কাপড় থেকে আলাদা করে পরিষ্কার করুন, এতে রং উঠে অন্য কাপড়ে লেগে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
n যারা ওয়াশিং মেশিনে কাপড় পরিষ্কার করেন, তাদের খেয়াল রাখতে হবে, ওয়াশিং মেশিনের ফিল্টার পরিষ্কার আছে কি না। সম্ভব হলে, ওয়াশিং মেশিনের ফিল্টার সপ্তাহে ১ বার পরিষ্কার করবেন।
n দামি কাপড় পরিষ্কারের সময়, কেনার সময় পরিষ্কারের যে নির্দেশনা থাকে তা মেনে চলতে হবে। এতে কাপড় স্থায়িত্ব বাড়বে।
n বেশি ময়লা কাপড় ও তুলনামূলক কম ময়লা কাপড় আলাদা করে ফেলুন ধোয়ার আগেই। এতে কাপড় পরিষ্কার সহজ ও সুবিধাজনক হবে।
n অতিরিক্ত গরম পানির ব্যবহার কাপড়ের জন্য ক্ষতিকর। কাজেই যে সব কাপড় পরিষ্কারে গরম পানির প্রয়োজন হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন।
n ভারী ফেব্রিকের কাপড়, যেমন :জিন্স, পরিষ্কারের সময় ব্রাশ ব্যবহার করুন। এতে সহজেই ময়লা উঠে যাবে।
ও য়া শি ং মে শি নে র য ত্নে ক র ণী য়
n অবশ্যই ওয়াশিং মেশিনটিকে মেঝের সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে রাখুন। ওয়াশিং মেশিনের একদিক উঁচু বা একদিক নিচু যেন না হয়ে থাকে। বসানোর ক্ষেত্রে উঁচু নিচু হয়ে থাকলে ওয়াশিং মেশিনে ইন্টারনাল ড্যামেজ হয়। দরকার হলে নিচু দিকটির তলায় কোনো জিনিস দিয়ে রাখুন যাতে ওয়াশিং মেশিনটি ঠিক সমানভাবে বসানো যায়।
n নিয়মিত ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার করুন। ডিটারজেন্ট জমে অনেক সময়ই মেশিনের অনেক অংশ ব্লক হয়ে যেতে পারে। ধোয়ার কাজ হলে ভালোভাবে ওয়াশিং মেশিনের ভিতরটা ধুয়ে নিতে হবে। ডিটারজেন্ট বা ফেব্রিক সফটনার ব্যবহার করার পরে যদি তা মেশিনের ভিতরে জমে থাকে তাহলে মেশিনের ক্ষতি হয়। তাই ওয়াশিং মেশিনের ভিতর ও যতটা সম্ভব বাইরের অংশকেও পরিষ্কার রাখবার চেষ্টা করুন ।
n একেবারে বেশি পরিমাণে জামাকাপড় মেশিনের মধ্যে ঢুকিয়ে দেবেন না। জামাকাপড়ের পরিমাণ সীমিত রাখুন। অতিরিক্ত পরিমাণ জামাকাপড় ওয়াশিং মেশিনে ভরে মেশিন চালিয়ে দিলে ধোয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। ফলে জামাকাপড় ভালোভাবে পরিষ্কারও হয় না। বেশি জামাকাপড় ধোয়ার প্রয়োজন হলে অল্প অল্প করে জামাকাপড় কয়েকবার মেশিন চালিয়ে ধুয়ে নিন।
n ওয়াশিং মেশিনে কোনো আওয়াজ হলে বা কোনো যন্ত্রাংশ ঢিলে হয়ে বেরিয়ে এলে তখন ওই মেশিনে জামাকাপড় ধোয়া বন্ধ রাখুন। অল্প সমস্যা দেখা দিলেই যদি সারিয়ে নেন তাহলে আর বড় কোনো সমস্যার কবলে পড়তে হবে না।
