মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছেন সুন্দরবনের ১৪ জেলে

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১:১৪

মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন সুন্দরবনে মৎস্য শিকারে গিয়ে অপহৃত ১৪জন জেলে। তবে, মুক্তিপণের টাকা দিতে না পারায় এখনো জিম্মি করে রাখা হয়েছে অন্তত ছয়জন জেলেকে।

পূর্ব সুন্দরবনের জেলেপল্লী শেলারচরের মৎস্য ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন মিঠু বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে মুঠোফোনে বলেন, ‘দস্যুরা চার মহাজনের ১৪ জেলেকে ছেড়ে দিয়েছে। প্রত্যেক জেলের জন্য ৭০-৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দস্যুদের দিতে হয়েছে।’

বনবিভাগ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত চার মাসে সুন্দরবন ও সাগরে বেশ কিছু ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা ঘটলেও এ পর্যন্ত শরণখোলা থানায় একটি ডাকাতি মামলা রেকর্ড হয়েছে। শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী ফিরোজ হাওলাদার বাদী হয়ে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী প্রধান জাহাঙ্গীরকে প্রধান আসামি করে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি শরণখোলা থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধানসাগর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘জাহাঙ্গীর ডাকাতের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এই মামলায় অপহৃত জেলেদের জাহাঙ্গীর বাহিনী ইতোমধ্যে ছেড়ে দিয়েছে। দস্যুদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই সুন্দরবনে অভিযান চালানো হবে বলে।’

গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনী পূর্ব সুন্দরবনের শেলার চর শুঁটকি পল্লীতে হানা দিয়ে একটি ট্রলারসহ ৬ জেলেকে এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ২০টি ট্রলার থেকে ২০ জেলেকে অপহরণ করেছিল বনদস্যু জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনী।

শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্র দুবলার চরের বিশেষ টহল ফাঁড়ির ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় অপহৃত জেলেদের মহাজনদের বরাতে বলেন, ‘চাহিদা অনুযায়ী চাঁদা না পাওয়ায় সংঘবদ্ধ দস্যুরা যেকোনো সময় শুঁটকি পল্লীতে হানা দিয়ে ব্যাপক সংখ্যক জেলে অপহরণের হুমকি দিয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুঁটকি উৎপাদনকারী চরগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে।’

ইত্তেফাক/এপি