ঘরোয়া পারফরম্যান্সে আত্মবিশ্বাসী, জাতীয় দলের অপেক্ষায় অহিন

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৬, ১৪:০৫

জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন থাকে প্রায় প্রতিটি তরুণ ক্রিকেটারেরই। তবে সেই স্বপ্ন পূরণে অনেক সময় দীর্ঘ অপেক্ষা ও কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়। তেমনই এক পথচলার গল্প তরুণ অলরাউন্ডার মেহেরাব হোসাইন অহিন। দ্রুত আলোচনায় এলেও জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার বিষয়ে তাড়াহুড়া করতে রাজি নন তিনি। বরং নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করেই বড় মঞ্চে নামতে চান।

ঘরোয়া ক্রিকেটে গত ছয় মাসে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করেছেন অহিন। বিভিন্ন টুর্নামেন্টে সুযোগ পেলে ব্যাট ও বল— দুই বিভাগেই দলের জন্য অবদান রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি। সবশেষ বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) চার ম্যাচে সাতটি উইকেট শিকার করার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও কার্যকর ইনিংস খেলেছেন এই তরুণ অলরাউন্ডার।

তবে নিজের ক্যারিয়ারের শুরুটা খুব মসৃণ ছিল না বলে জানিয়েছেন অহিন। অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ খেলার পর তিনি তেমন কোনো জাতীয় ক্যাম্পে সুযোগ পাননি। পরে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ভালো পারফরম্যান্স করলেও নিয়মিত প্রস্তুতির সেই পরিবেশ পাননি বলে মনে করেন তিনি। তার ভাষায়, তখন ক্যাম্পে থাকলে নিজের উন্নতিটা আরও সহজ হতে পারত।

তবে সেই সময়টাকে এখন তিনি অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখেন। কঠিন সময় তাকে মানসিকভাবে আরও দৃঢ় করেছে বলে মনে করেন অহিন। তাই এখন জাতীয় দলে ঢোকার ক্ষেত্রে তিনি ধৈর্য ধরতেই আগ্রহী।

অহিনের মতে, দ্রুত জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ সেখানে টিকে থাকা। তিনি বলেন, তাড়াহুড়া করে দলে ঢুকে আবার বাদ পড়তে চান না। বরং যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে, পরিপক্ক হয়ে জাতীয় দলে অভিষেক করতে চান— যাতে দীর্ঘ সময় ধরে দলের হয়ে অবদান রাখতে পারেন।

নিজের উন্নতির পেছনে সিনিয়রদের অবদানও স্বীকার করেছেন অহিন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল দলের অধিনায়ক নাজমুল হাসান শান্তর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছেন বলে জানান তিনি। এনসিএল, বিপিএলসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্টে শান্তর অধীনে খেলতে গিয়ে নিজের দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন।

অহিন মনে করেন, একজন ক্রিকেটারের উন্নতির পেছনে কোচ বা সিনিয়র ক্রিকেটারদের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানসিকতা বোঝার ক্ষেত্রেও শান্ত তাকে সহায়তা করেছেন বলে জানান তিনি।

কঠিন সময়ে পাওয়া একটি সহায়তার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন এই তরুণ অলরাউন্ডার। ২০২৪ সালে যখন তিনি কোনো ক্যাম্পের সুযোগ পাচ্ছিলেন না, তখন তৎকালীন নির্বাচক হান্নান সরকার তাকে একটি ক্যাম্পে সুযোগ করে দিয়েছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই ক্যাম্পটি হয়নি, তবু সেই উদ্যোগ তাকে অনুপ্রাণিত করেছে।

ইত্তেফাক/কেএইচ