এনডিটিভি
এগার দিন আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জম্মু ও কাশ্মীরের আধিকারিকদের একটি ‘ডেডলাইন’ দিয়েছিল ৫ আগস্ট, ২০১৯। তার আগেই রাজ্যে বিপুল পরিমাণে আধাসামরিক সেনা মোতায়েন করার কথা বলা হয়েছিল যাতে ৩৭০ ধারা বাতিল করার কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো অসন্তোষ প্রদর্শিত হলে তার মোকাবিলা করা যায়। জম্মু ও কাশ্মীরের বর্ষীয়ান আধিকারিকরা জানতেন কী হতে চলেছে। তারা কেবল ঘোষণাটির অপেক্ষায় ছিলেন সোমবার। সোমবার দুপুর দুটোর মধ্যে রাজ্য প্রশাসন তৈরি হয়ে গিয়েছে। এই প্রক্রিয়ার শুরু হয় কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী সেনা মোতায়েনের মধ্যে দিয়ে। রবিবার সন্ধ্যের মধ্যে অন্তত ৪৩০ কোম্পানি অর্থাত্ ৪৩,০০০ সেনা মোতায়েন করা হয় রাজ্যে।
সম্প্রতি প্রাপ্ত জি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমানে করে ঐ সেনাদের নিয়ে আসে বিমান সেনারা। বায়ুসেনা আধিকারিকরা জানিয়েছেন, প্রায় যুদ্ধকালীন তত্পরতায় এক সপ্তাহেরও কম সময়ে ১০০টিরও বেশি পদক্ষেপ নিয়েছে বিমানসেনারা। সারাদেশ থেকে আনা হয় জম্মু ও কাশ্মীরে। রবিবার গভীর রাতে মোবাইল ব্রডব্যান্ড পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রবিবার রাত ১১টার পরে শ্রীনগরের অধিকাংশ অঞ্চলের মোবাইল ব্রডব্যান্ড পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। মোবাইল ফোনের পরিষেবাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সোমবার ভোর ৪টার মধ্যে ল্যান্ডলাইন পরিষেবাও বন্ধ হয় শ্রীনগরের বেশ কিছু অঞ্চলে কোনো প্রতিহিংসামূলক প্রতিক্রিয়া তৈরি না হয়।
এই পরিস্থিতিতে স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমেই নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখে নিরাপত্তা বাহিনী। ওয়ারলেস সংযোগই এই মুহূর্তে যোগাযোগের মূল মাধ্যম। আইন-শৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতি হলে, বিশেষ করে দাঙ্গা বিষয়ে সতর্কতার পদক্ষেপ হিসেবে ৬০ জন অতিরিক্ত স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেটকে রাজ্যে নিয়ে আসা হয়েছে। এদের বলা হচ্ছে ‘মোবাইল ম্যাজিস্ট্রেট’। দ্রুত গ্রেফতারি কার্যকর করা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা করার জন্যই তাদের নিয়োগ করা হলো। বৃহত্তর শ্রীনগরে যাদের গ্রেফতার করা হবে তাদের অন্তত ছয়টি কারাগারে বন্দি রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক গ্রেফতারির সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে। রাজ্যের যে সমস্ত চিকিত্সকরা এই মুহূর্তে ডিউটিতে নেই, তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেকোনো সময় ডাকা হতে পারে বলে। শুক্রবার অমরনাথ যাত্রা স্থগিত করে দেওয়ার পর সমস্ত তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের রাজ্য ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তারপর থেকেই রাজ্যের সমস্ত অতিথি নিবাস বন্ধ রাখা হয়েছে।
তাছাড়া এই প্রথমবার শ্রীনগরের রাজ্য প্রশাসন ভিনরাজ্যের সাংবাদিকদের তাদের হোটেল থেকে বেরিয়ে এসে সরোবর পোর্টিকো হোটেলে উঠতে বলে, যা মধ্য শ্রীনগরে অবস্থিত কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাসম্পন্ন। সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সাংবাদিকদের সুরক্ষা দিতে। রেডিও কাশ্মীর ও নিশাত গার্ডেনসের মধ্যবর্তী এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ব্যাঙ্কে যথেষ্ট পরিমাণে টাকা রাখা হয়েছে। জ্বালানিও যথেষ্ট পরিমাণে মজুত রাখা হয়েছে।
