বিদ্যুত্ বিভ্রাট ও লোডশেডিংয়ের কবলে দিনাজপুর

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৯, ২১:০৪

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর

সৈয়দপুর ও রংপুরের দুটি বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্রের উত্পাদন হঠাত্ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই দিন ধরে বিদ্যুত্ বিভ্রাট ও লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে দিনাজপুরসহ এই অঞ্চল। দুদিন ধরে শহরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং আর গ্রামাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় রাতভর বিদ্যুত্ না থাকায় তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এই অঞ্চলের মানুষ। এরই মধ্যে শনিবার রাতে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার জন্য ব্ল্যাক আউট হয়ে পড়ে গোটা রংপুর বিভাগ। দিনাজপুর বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির কর্মকর্তারা বিদ্যুত্ বিভ্রাট ও চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুত্ পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও স্বীকার করছেন না রংপুর অঞ্চলের নর্দার্ন ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি-নেসকো এবং পাওয়ার গ্রীড কোম্পানি অব বাংলাদেশ-পিসিজিবির কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) দিনাজপুর ডিভিশন-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফজলুর রহমান জানান, তার অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাচ্ছেন মাত্র ৮ মেগাওয়াট। বিউবোর দিনাজপুর ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো.আব্দুল মতিন জানান, তার অঞ্চলে ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও তিনি সরবরাহ পাচ্ছেন মাত্র ৮ থেকে ১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুত্। এই দুজন কর্মকর্তা জানান, চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুত্ সরবরাহ পাওয়ায় দিনাজপুর শহরে ভাগাভাগি করে বিদ্যুত্ সরবরাহ করতে হচ্ছে। এজন্য শহরের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং দিতে বাধ্য হতে হচ্ছে।

দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১-এর সহকারী মহাব্যবস্থাপক মুনতাসির বিন হাসিব জানান, এই সমিতির আওতায় বিদ্যুতের চাহিদা ৭০ মেগাওয়াট। কিন্তু তারা সরবরাহ পাচ্ছেন ৩৫ থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্।

দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-২-এর মহাব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন জানান, তার এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ৫৫ মেগাওয়াট, সরবরাহ করা হচ্ছে ৫৫ মেগাওয়াটই। তবে শনিবার রাতে বিদ্যুত্ বিভ্রাটের কথা স্বীকার করেন তিনি। বিউবো দিনাজপুরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, ডিজেল চালিত ২০ মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতাসম্পন্ন সৈয়দপুর বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্র এবং একই উত্পাদন ক্ষমতাসম্পন্ন রংপুর বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্রের উত্পাদন বন্ধ থাকায় বিদ্যুত্ সরবরাহের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তিনি জানান, ভোল্টেজ এবং লোড কম থাকার কারণেও বিদ্যুত্ সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। ৩৩ কেভি (কিলো ভোল্ট)-এর স্থলে পাওয়া যাচ্ছে ২২ কেভি। নর্দার্ন ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড-নেসকো রংপুর অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম জানান, রংপুর অঞ্চলে বর্তমানে বিদ্যুতের কোনো সংকট নেই। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হচ্ছে।

পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী অব বাংলাদেশ-পিসিজিবির রংপুর অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহজাহান আলী জানান, এই অঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদা ৭৭০ মেগাওয়াট। এই চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হচ্ছে। বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। তবে লো-ভোল্টেজের কারণে কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুত্ সরবরাহ ক্রমান্বয়ে একদিকে বন্ধ রেখে অন্যদিকে বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি জানান, বিদ্যুতের লাইনের সমস্যার কারণে কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুত্ সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে ডাবল লাইন নির্মাণ করা হলে এই সমস্যা আর থাকবে না।