মুন্সী মাহবুবুর রহমান বাবু,
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা
এক সময়ের স্রোতঃস্বিনী ভৈরব নদ পানির অভাবে শুকিয়ে গেছে। ভরা বর্ষায় বৃষ্টি না থাকায় তা ছেয়ে গেছে আগাছা আর কচুরিপানায়। দুই পাড়ের জমি দখল করে নদের বুকজুড়ে চলছে ধানসহ অন্যান্য ফসলের চাষাবাদ। নদের দিকে তাকালে বোঝার উপায় নেই এটা এক সময় খরস্রোতা নদী ছিল। ভৈবর নদ বাঁচাতে অবিলম্বে ড্রেজিং করে এর নাব্য ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে জীবননগরবাসী।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলার জীবননগর পৌরসভা, মনোহরপুর, উথলী, আন্দুলবাড়িয়া ও বাঁকা ইউনিয়নে সরকারি খাস খতিয়ানে ভৈরব নদের প্রায় ৮৩ হেক্টর জমি রয়েছে। এর মধ্যে জীবননগর পৌরসভায় ২১ হেক্টর, উথলী ইউনিয়নে ৩২ হেক্টর, আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নে ১৯ হেক্টর ও বাঁকা ইউনিয়নে ১১ হেক্টর জমি রয়েছে।
অনুসন্ধানকালে জানা যায়, নদের যেসব অংশে পানি প্রবাহ রয়েছে সেসব অংশ ভূমি দস্যুরা দখল করে বাঁধ দিয়ে পুকুর তৈরি করেছে। এ সকল পুকুরে মাছ চাষ করা হচ্ছে। ফলে নদের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আবার কেউবা নদের পাড় দখল করে নির্মাণ করেছে ইটভাটা। আবার যেসব স্থানে পানি শুকিয়ে গেছে সেসব স্থান দখল করে নদের বুক সমান করে ধান চাষাবাদ করা হচ্ছে।
নদীসংলগ্ন লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হক জানান, পূর্বে ভৈরব নদের পানি দিয়ে ধানসহ অন্যান্য ফসলের খেতে সেচ দিয়ে শস্য উত্পাদন করত কৃষকরা; কিন্তু দখলদাররা নদের মাঝ বরাবর বাঁধ দেওয়ার কারণে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে নদ একেবারে শুকিয়ে গেছে।
যার কারণে শ্যালোইঞ্জিন দিয়ে ফসল খেতে সেচ দিতে হচ্ছে। ফলে উত্পাদন খরচ বহুগুণে বেড়ে যাচ্ছে। বাঁকা মাঠপাড়ার আয়নাল হোসেন জানান, ভূমি দস্যুরা এর পূর্বে নদের জমি দখল করে নিয়েছিল। সে সময় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা দখলমুক্ত হয়; কিন্তু বর্তমানে প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় ভূমি দস্যুরা আবারো বেপরোয়া হয়ে নদ দখলে মেতে উঠেছে। তিনি অনতিবিলম্বে ড্রেজিং করে নদের নাব্য ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, আগামী প্রজন্মের স্বার্থে ভৈরব নদ জরুরিভাবে ড্রেজিং করে এর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। ভৈরব নদ প্রাণ ফিরে পেলে উপকৃত হবে এ জনপদের মানুষ। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে উপজেলা হতে সংশ্লিষ্ট মহলে একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি।
