মৌলবাদের সাথে পাল্লা দিয়ে গিয়ে পিছিয়ে পড়ছি আমরা

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৯

বেশ কিছুদিন আগের কথা, পপুলার হসপিটালে বসে আছি। অপেক্ষা করছি- কখন আমার সিরিয়াল আসবে। অপেক্ষারত রোগীদের সাথে টিভি দেখছি আর একটু পর পর ডেকে যাওয়া সিরিয়াল শুনছি।

হঠাৎ টিভি স্ক্রিনে সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে দেখানোর সাথে সাথে যিনি সিরিয়াল ডাকছেন তিনি বলে উঠলেন, ” এই সেই মা...আ...., ভেবেছিলাম মরছে, কিন্তু শালা মরে নাই। সৌদি আরবটারে নষ্ট কইরা ফালাইতেছে। মাইয়াগো ঘরের বাইরে নিয়া আইছে। কত সুন্দর শাসন ছিলো আগে। শরিয়া আইনডারে শেষ কইরা ফালাইতেছে, শালা! ইহুদিগো দালাল শালা। ” পাশের ব্যক্তিও শরিয়া আইনের বেশ প্রশংসা করলেন, চুরির বিচার হাত কেটে দেওয়াকে সমর্থন করলেন।

এখনকার অনেক মানুষ ধর্মীয় নিয়ম–নীতির কড়াকড়ি ব্যাখার দিকে আগের চেয়ে বেশি ঝুঁকছে। অথচ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ নিজস্ব কাঠামো পুনর্বিবেচনা করে ধীরে ধীরে নতুন পথে হাঁটার চেষ্টা করছে। আমরা বরং সেই বিপরীত দিকে হেঁটে আরও সংকীর্ণতার দিকে সরে যাচ্ছি। আধুনিক সমাজব্যবস্থার সঙ্গে যেসব বিধান স্বাভাবিকভাবে খাপ খায় না, সেগুলো সম্পর্কেও আমাদের বোঝাপড়া অনেক সীমিত। ধর্মীয় আবেগকে সামনে রেখে অনেকেই অজান্তেই এসবের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে।

যদিও দেশে এখনো অনেক জায়গায় এই আইনে বিচার চলছে। খুব অমানবিক এই বিচার ব্যবস্থায় পুলিশ গিয়ে পরে হয়তো সালিশকারীদের গ্রেফতার করছে। কিন্তু তা বন্ধ হচ্ছে না। বিভিন্ন রকম ফতোয়া চলছেই।

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পরকীয়ার অভিযোগে নর-নারীকে স্থানীয় মাতবররা যেভাবে অত্যাচার করেছে তা স্রেফ বর্বরতা। সৌদির প্রকাশ্যে বিচারের একটি চিত্র। অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে-বসে দেখছে এই অমানবিক-পাশবিক দৃশ্য! এই নিউজ লিঙ্কের কমেন্ট অপশানে গেলে দেখা যায় অসংখ্য মানুষ পাথর নিক্ষেপ করে মেরে ফেলার কথা বলছে, শরিয়া আইন চাচ্ছে!

আচ্ছা মানুষের কি অধিকার থাকে অন্যায়ের বিচার করার? সত্যি বলতে, এই মানুষগুলোর তো অধিকার নেই তাদের বিচার করার। স্বামী-স্ত্রীর অভিযোগ থাকলে তারা নিজেরা যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে, আদালতে যেতে পারে।

সময়ের সাথে মানুষ সভ্য-আধুনিক হয়, আমরা অনাধুনিক হই। শিক্ষিত মানুষগুলোর দায় রয়ে যায় আধুনিক চিন্তা বিকাশের, প্রগতিশীলতা চর্চার। কিন্তু শিক্ষিত মানুষগুলোই বড় পিছিয়ে পড়া সংস্কার নিয়ে আছি। যারা কিছুটা সংস্কারমুক্ত তারাও নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত। তাই সমাজ মৌলবাদের সাথে পাল্লা দিয়ে পারছে না, পিছিয়ে পড়ছে দিন দিন। বরং কঠিন হচ্ছে নারীদের সংগ্রামের সময় গুলো। নানান বাঁধা তৈরি হচ্ছে তাদের জীবনে।

.