শিল্পীর তুলিতে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জীবনচিত্র
ইত্তেফাক রিপোর্ট
নিকন চাকমা এঁকেছেন বাঁশির সুরে স্বপ্ন বোনা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এক নারীর ছবি। মং কিউ সিন মার্মা এঁকেছেন পাহাড়ি নারীর ফল কাঁধে ঘরে ফেরার চিত্র। নয়ন ত্রিপুরার ছবিতে পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির বর্ণনা। এছাড়াও, পাহাড়ি শিল্পীদের ছবিতে উঠে এসেছে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের জীবনের বিভিন্ন দিক। তাদের জীবনযাপন, সংস্কৃতি এবং সংগ্রাম। শিল্পকলা একাডেমি ও বাংলাদেশ এথনিক আর্টিস্ট ফোরামের আয়োজনে জাতীয় চিত্রশালার ২ নম্বর গ্যালারিতে শুরু হয়েছে ‘পাহাড়ের বর্ণিল সংস্কৃতি’ শীর্ষক প্রদর্শনী। এ প্রদর্শনী আয়োজনের মধ্য দিয়েই যাত্রা শুরু করল এথনিক আর্টিস্ট ফোরাম।
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার অধিবাসীরা প্রকৃতি-ঘনিষ্ঠ জীবনযাপন করেন। ক্যানভাসেও উঠে এসেছে প্রকৃতির সেই উজ্জ্বলতা। উঠে এসেছে তাদের মাটি-ঘনিষ্ঠ জীবনযাপন। প্রদর্শনীতে ৪০ জন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার শিল্পীর তুলিতে প্রায় ৮০ চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে। রয়েছে ভাস্কর্য।
বাংলাদেশে প্রায় ৫০টি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার বসবাস রয়েছে। সেসব জাতিগোষ্ঠীর অধিকাংশেরই নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রয়েছে। পরিচর্যা ও সংরক্ষণের অভাবে তাদের ভাষা ও সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গগুলো আজ যথাযথভাবে বিকশিত হচ্ছে না। সেগুলো সংগ্রহ করে চিত্রশিল্পে উপস্থাপনের জন্যই বাংলাদেশ এথনিক আর্টিস্ট ফোরামের উদ্যোগে ও শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় এ আয়োজন।
প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু হেনা মোস্তফা কামাল। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ এথনিক আর্টিস্ট ফোরামের উপদেষ্টা শিল্পী কনক চাঁপা চাকমা।
প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া শিল্পীরা হলেন- কনক চাঁপা চাকমা, ওয়াং চিং থোয়াই মারমা, সৌল হাঁচ্চা, রূপশ্রী হাজং, নয়ন ত্রিপুরা, তিতাস চাকমা, মংপু মার্মা, সুইন চাকমা, জয় চাকমা, বৈবি কুবি, পাপিয়া চাকমা, পিংকু ত্রিপুরা, প্রজ্ঞা দেওয়ান, অংথোয়াই মারমা, প্রণব খীসা, বর্ণা চাকমা, পরাগ চাকমা, প্রণব তালুকদার, সুফল চাকমা, জুনান চাকমা, লিংকন নংউড়া, থেংচি গ্লোরিয়া রাংসা, নিকন চাকমা, অমিত কোচ, নাউ বাউ মারমা, তানিয়া চাকমা, তুফান চাকমা, লুম্বিনি দেওয়ান, বেনজির সিধু দ্রং, আতিয়া মাইবম, খাদিম সিথি সিনহা, মং কিউ সিন মার্মা, মং চাই হ্লা মারমা, এভরি চাকমা, সালাস মনকিন, নিলিমা মাঝি, জয়সেন মার্মা, সৌমিক দেওয়ান ও ক্যাহ্লা মং মার্মা। প্রদর্শনীটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উত্সর্গ করা হয়েছে। চলবে বুধবার পর্যন্ত। সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
শিল্পকলায় বঙ্গবন্ধুর বই পাঠ পর্যালোচনার উদ্বোধন :বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে ‘শিল্পের আলোয় বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক মাসব্যাপী অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে গতকাল উদ্বোধন করা হয় বঙ্গবন্ধুর ওপর রচিত গ্রন্থের পাঠ পর্যালোচনা। একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধুকে নিবেদন করে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়। এরপর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ১০০টি বই পর্যালোচনা করা লেখকদের মধ্যে কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাসুদ রহমান, পর্যালোচক নাহিদা আশরাফি, পীযূস কান্তি বড়ুয়া এবং স্বকৃত নোমান। বই পর্যালোচনা করা ২০ জনের লেখা নিয়ে শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে প্রকাশ করা হবে বিশেষ প্রকাশনা।
