বরিশালে সরকারি স্টিমার সার্ভিসে নানা অব্যবস্থাপনা

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৯, ২১:৫৬

ঈদুল আযহা উপলক্ষে বিআইডব্লিউটিসি আগামী ৮ আগস্ট থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত স্পেশাল সার্ভিস ঘোষণা করেছে। সংস্থার ৫টি স্টিমার ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে ও ২টি স্টিমার উপকূলীয় এলাকায় যাত্রী পরিবহন করবে। ঈদে নাড়ীর টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করে দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ। বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুট লাভজনক হওয়ায় বেসরকারি লঞ্চ কোম্পানি একের পর এক বিলাসবহুল লঞ্চ বহরে যুক্ত করলেও প্রতি রাউন্ড ট্রিপে এক লাখ টাকা লোকসান গুনেও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না সরকারি স্টিমার। বিআইডব্লিউটিসি ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলে যাত্রী পরিবহনের জন্য ৫টি জাহাজের মধ্যে এমভি বাঙালী ও মধুমতি ব্যতিত বাকি পিএস মাহসুদ, টার্ন ও লেপচা প্যাডেল স্টীমার।

ঢাকা থেকে সপ্তাহে চার দিন ও বরিশাল থেকেও চার দিন একটি করে বিআইডব্লিউটিসি’র স্টিমার সার্ভিসে থাকলেও যাত্রী আকর্ষন করতে পারছে না। সরকারী জাহাজের অব্যবস্থাপনা, সময়সূচীতে যাত্রীদের বিড়ম্বনা, ঘাটগুলোর বেহালদশা, তিন শ্রেনীর কেবিনের বেহালদশায় যাত্রী আকর্ষন করতে পারছে না। প্রতি রাউন্ড ট্রিপে বেসরকারী কোম্পানীর বিলাসহুল লঞ্চগুলো লাভের মুখ দেখলেও সরকারী জাহাজের সিডিউল কিংবা যাতায়াতে যাত্রীদের আগ্রহ কম। অথচ বেসরকারী লঞ্চগুলোতে ঈদ মৌসুমে ধারণ ক্ষমতার ৪ থেকে ৫গুণ বেশি যাত্রী পরিবহন।

বিআইডব্লিউটিসি’র যাত্রীদের ঘাটে ঘাটে পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। সংস্থার স্টিমারগুলো                বরিশাল নৌ-বন্দরে ভিড়তে পারে না। নৌ-বন্দর সংলগ্ন (সাবেক শিপ ঘাট) এলাকা থেকে যাত্রী পরিবহন করলেও সেখানকার পন্টুনে কোনো বসার স্থান না থাকায় বৃদ্ধ, নারী ও শিশু যাত্রী সহ সকলকেই ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। যাত্রীরা জানান ঘাটের সামনে পাইকারী এ কাঁচাবাজারের পচে যাওয়া পণ্য ফেলে রাখা হয়। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগের আর সীমা নেই যাত্রীদের। সরকারী জাহাজে নিয়মিত যাতায়াতকারী একাধিক যাত্রী অভিযোগ করেন সরকারী এ স্টীমারের জন্য পৃথক এ ঘাটে যাত্রীদের নানান ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ ঘাটটি পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন নয় এবং টয়লেট কিংবা বসার সুবিধা কোনটাই নেই। তাই নিতান্ত বাধ্য না হলে কেইউ এ ঘাটে আসেন না। যাত্রীদের অভিযোগ বেসরকারী নৌ-যানের ক্ষেত্রে সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করলেও সরকারী জাহাজের প্রতি কারোর কোনো গুরুত্ব নেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে বেসরকারী লঞ্চের জন্য ব্যবহূত মূল টার্মিনাল পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রয়েছে। কিন্তু সরকারি স্টিমারের জন্য ব্যবহূত ঘাটের সর্বত্রই নোংরা পরিবেশ। বিআইডব্লিউটিসি’র এখানকার সহ-মহাব্যবস্থাপক (বানিজ্য) সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ ইত্তেফাককে জানান, স্টীমারে যাত্রী পরিবহনের এ ঘাটে নানান অসুবিধার কথা বিআইডব্লিউটিএকে জানালেও কোনো লাভ হচ্ছে না। তিনি বলেন টার্মিনালের সকল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা বিআইডব্লিউএ’র কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে উদাসীন। মূল টার্মিনালে স্টীমারে যাত্রী পরিবহনের জন্য তাগিদ দিলেও বিআইডব্লিউটিএ (পুরাতন শিপ ঘাট) থেকে যাত্রী পরিবহনের জন্য নির্ধারন করে। কিন্তু সেখানকার ব্যবস্থাপনা যাত্রী বান্ধব নয় বলে তিনি জানান। তিনি বলেন এ ঘাট থেকে বিআইডব্লিউটিএ যাত্রী প্রতি ৫টাকা হারে ইজারা তুললেও যাত্রী ছাউনি কিংবা যাত্রীদের বসার কোনো স্থান নেই।