ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভেদ আরও নিখুঁত, পেছনে চীনের বাইদু নেভিগেশন সিস্টেম?

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৭

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলায় ইরান সম্ভবত চীনের স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা ব্যবহার করছে বলে ধারণা করছেন গোয়েন্দা বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, চীনের বাইদু নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম ব্যবহার করার কারণে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আগের তুলনায় অনেক বেশি নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদ করতে পারছে। খবর আলজাজিরার

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রান্সের সাবেক বৈদেশিক গোয়েন্দা প্রধান অ্যালেন জুলিয়েট একটি পডকাস্টে বলেন, গত বছরের যুদ্ধের তুলনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যভেদের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ পরিবর্তনের পেছনে চীনের নেভিগেশন প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার জবাবে ইরান শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। এতে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করা হয়। অনেক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিহত করা হলেও কয়েকটি লক্ষ্যভেদ করে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছে।

বিশ্লেষকরা জানায়, অতীতে ইরানের সামরিক বাহিনী মূলত মার্কিন গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) নির্ভর করত। কিন্তু যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র চাইলে জিপিএস সিগন্যাল বন্ধ বা জ্যাম করতে পারে। সে কারণে ইরান বিকল্প প্রযুক্তি খুঁজতে শুরু করে। চীন ২০২০ সালে তাদের নতুন প্রজন্মের স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা চালু করে, যা জিপিএসের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হয়। ওই সময় বেইজিংয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আনুষ্ঠানিকভাবে এই ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন।

এই সিস্টেমের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এতে অনেক বেশি স্যাটেলাইট ব্যবহৃত হয়। যেখানে জিপিএস ব্যবস্থায় ২৪টি স্যাটেলাইট রয়েছে, সেখানে চীনের ব্যবস্থায় প্রায় ৪৫টি স্যাটেলাইট কাজ করে। এ ছাড়া রাশিয়ার গ্লোনেস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্যালেলিও বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত অন্যান্য নেভিগেশন ব্যবস্থা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্যাটেলাইট সিগন্যাল ব্যবহার করলে ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্য নির্ধারণ অনেক বেশি নির্ভুল হয়। সাধারণত ক্ষেপণাস্ত্র প্রথমে নেভিগেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে পথ ধরে রাখে এবং পরে স্যাটেলাইট সিগন্যাল ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান আরও নিখুঁতভাবে ঠিক করে।

চীন-ইরান সম্পর্ক বিশ্লেষক থিও নেনচিনি বলেন, ২০১৫ সালেই ইরান তাদের সামরিক অবকাঠামোয় বাইদু প্রযুক্তি যুক্ত করার জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল। পরে ২০২১ সালে চীন-ইরান কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তির পর এই প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়তে শুরু করে। তখন থেকেই ইরান ধীরে ধীরে জিপিএসের পরিবর্তে বাইদু ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকতে শুরু করে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন পরিচালনায় তা অন্তর্ভুক্ত করে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাইদু ব্যবস্থার নির্ভুলতার সীমা এক মিটারেরও কম হতে পারে। ফলে এটি শুধু লক্ষ্য নির্ধারণেই নয়, আকাশে উড়ন্ত ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের পথও মাঝপথে সংশোধন করতে সক্ষম। এছাড়া এতে বিশেষ যোগাযোগ সুবিধা রয়েছে, যার মাধ্যমে ২ হাজার কিলোমিটার দূর থেকেও ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব। এতে প্রয়োজনে লক্ষ্যবস্তু পরিবর্তন করাও সহজ হয়।

 

ইত্তেফাক/কেএইচ