মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় বাবাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ছেলে

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২৬, ২০:২০

জয়পুরহাটের কালাইয়ে মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ার জেরে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হামলাকারীর মা ও বোন গুরুতর আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার পুনট ইউনিয়নের বফলগাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত ব্যক্তির নাম আক্কাছ আলী (৫৮)। তিনি বফলগাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। আহত ব্যক্তিরা হলেন তার স্ত্রী মাহমুদা বেগম (৫২) ও মেয়ে শাবানা (৩৫)। তাদের গুরুতর অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত ছেলের নাম গোলাপ হোসেন (২৮)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোলাপ হোসেন তার বাবা আক্কাস আলীর কাছে কয়েকদিন ধরে একটি মোটরসাইকেল দাবি করে আসছেন। কিন্তু বাবা তা দিতে রাজি না হওয়ায় গোলাপ ক্ষিপ্ত হয়ে ইফতারের পর আক্কাস আলীকে বাঁশ, চাকু ও দা দিয়ে কোপাতে থাকে।

এ সময় আক্কাস আলী মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তার স্ত্রী মাহমুদা বেগম ও মেয়ে শাবানা বেগম। তখন গোলাপ হোসেন তাদের ওপর হামলা চালান এবং মারধর করেন। তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে গোলাপকে আটক করেন।

পরে স্থানীয়রা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর দেখে দ্রুত বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে বগুড়ার মোকামতলা এলাকায় পৌঁছালে আক্কাস আলী মারা যান। আহত মাহমুদা বেগম ও শাবানা বেগমকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, গোলাপ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তাকে আগে পাবনার মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছিল। সেখান থেকে ফিরে কিছুদিন স্বাভাবিক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবার তার আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে। এলাকার অনেকেই তাকে ‘পাগল গোলাপ’ নামে চিনতেন।

প্রতিবেশী বাবলু হোসেন বলেন, ‘গোলাপের মানসিক সমস্যা দীর্ঘদিনের। কিছুদিন আগে তার বাবা কয়েক শতক জমি বিক্রি করেন। সেই টাকা দেখে গোলাপ একটি মোটরসাইকেল কেনার জন্য জোরাজুরি শুরু করে। কিন্তু তার বাবা রাজি না হওয়ায় ক্ষোভ থেকে এই ঘটনা ঘটতে পারে।’

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, শনিবার ইফতারের পর গোলাপ হোসেন তার বাবা, মা ও বোনকে কুপিয়ে আহত করেন। এতে তার বাবা আক্কাছ আলী মারা গেছেন। অভিযুক্ত গোলাপ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কী কারণে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এমএসআর/এএম