অভিযোগে বদলে গেল গাইড ওয়াল নির্মাণ

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৪

অভিযোগ ওঠায় রাতারাতি বদলে গেল গাইড ওয়াল নির্মাণকাজ। এর আগে মাদারীপুরের শিবচরে রাস্তার পাশে গাইড ওয়াল নির্মাণে ইটের গাঁথুনির নিচে কলাগাছ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। বিষয়টি নির্বাচনকালীন সময়ে ঠিকাদার কর্তৃক হওয়ায় দুঃখও প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। ভবিষ্যতে যেন এমন ভুল না হয়, সে দিকেও খেয়াল রাখার তাগিদ দিয়েছে তারা।

জানা যায়, জেলার শিবচর উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরকাকইর চৌরাস্তা মোড়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্মাণাধীন সড়কের গাইড ওয়াল নির্মাণে নিচের অংশে কলাগাছ বেঁধে দেওয়া হয়। এমন অনিয়ম স্থানীয়দের নজরে পড়লে তারা ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এতে জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে শিবচর উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে রাতারাতি সেসব কলাগাছ উপড়ে ফেলে নতুন করে গাইড ওয়াল নির্মাণ করেন।

শিবচর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ছয় মাস আগে উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়নের সাদেকাবাদ হয়ে সিপাইকান্দি থেকে মুন্সীকান্দি গ্রাম পর্যন্ত সড়কের গাইড ওয়াল নির্মাণকাজ শুরু করে মেসার্স মনির কনস্ট্রাকশন। যেখানে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। ১ হাজার ৫৫৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটির বেশ কয়েকটি স্থানে গাইড ওয়াল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শুরু থেকেই নির্মাণকাজে ধীরগতি ছিল। কয়েক দিন আগে ইট ও পিলার এনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কের এক পাশে গাইড ওয়ালের কাজ শুরু করে। যার পাঁচ মিটার স্থানে গাইড ওয়ালের নিচে কলাগাছ ব্যবহার করা হয়। পরে সেটি তুলে নতুন করে কাজ করা হয়। কাজটি চলতি বছরের ৩০ মার্চ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু তালেব বলেন, রাস্তাটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখান দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। তবে কিছু জায়গায় কলাগাছ দেওয়ার বিষয়টি দেখে আমরা প্রতিবাদ করি। পরে প্রকৌশলীরা এসে সেসব গাছ উঠিয়ে নতুন করে গাইড ওয়াল নির্মাণ করেন। এই সড়ক ব্যবহার করে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা সদরসহ সারা দেশে যাতায়াত করেন।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ঠিকাদার ভুল করে কাজটি করলেও এলজিইডির লোকজন দ্রুতই বিষয়টির সমাধান করেছেন। তবে প্রকৌশলীরা আরও যত্নবান হলে এমন ভুল হতো না। তারপরও তাদের ধন্যবাদ দিই যে তারা দ্রুতই সমস্যার সমাধান করেছেন। নির্বাচনের সময়ে তাড়াহুড়া করে কাজ করায় এমনটা হয়েছে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার আলমগীর হোসেন বলেন, আমাকে রাজমিস্ত্রি বিষয়টি জানায়নি। যে মিস্ত্রি কাজটি করেছে তাকে জিজ্ঞেস করেছি কেন এমন কাজ করা হয়েছে। আমি তাকে এমন কিছু করতে বলিনি। সে হয়তো ভুল করে করেছে। তবে শিডিউল অনুসারেই কাজ করা হচ্ছে। এমন ভুল আর হবে না। নির্বাচনের সময় রাস্তাটি দ্রুত মেরামতের জন্য তাড়াহুড়া করে কাজ করায় এমনটা হয়েছে।

এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্ত্তনীয়া বলেন, নির্বাচনে অনেক দায়িত্ব থাকায় দু–এক দিন কাজের স্থানে যেতে পারেননি কর্মকর্তারা। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই কাজটি পুনরায় করা হয়েছে। বর্তমানে কাজটি প্রায় ৯০ শতাংশ শেষের দিকে। যারা এমন কাজ করেছে, তাদের বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আমরা কাজের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করছি।

ইত্তেফাক/এএইচপি