যৌন পাচারকারী জেফরি এপস্টেইনের চাঞ্চল্যকর নথিপত্র বা ফাইল নিয়ে মার্কিন বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়ে আয়োজিত একটি রুদ্ধদ্বার ব্রিফিং বুধবার (১৮ মার্চ) মাঝপথে বর্জন করেছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চের সঙ্গে আয়োজিত এই বৈঠকে স্বচ্ছতার অভাব এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার অনুপস্থিতির অভিযোগ তুলে তারা সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।
প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ইয়াসমিন আনসারির মতে, এই ব্রিফিংয়ের ধরনটি কোনো বৈধ সংসদীয় শুনানির মতো ছিল না, বরং এটি একটি ‘ভুয়া শুনানি’ সাজানোর অপচেষ্টা মাত্র। ওয়াশিংটন ডিসিতে ক্যাপিটল হিলে আয়োজিত এই নাটকীয় ঘটনাটি এপস্টেইন মামলা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নতুন করে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রবার্ট গার্সিয়া গণমাধ্যমকে জানান, তিনি বারবার অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে তিনি শপথ নিয়ে জনসমক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার সমন বা ‘সাবপোনা’ পালন করবেন কি না। কিন্তু বন্ডি প্রতিবারই সেই প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকার করেন।
গার্সিয়া এই বৈঠককে অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে অভিহিত করে বলেন, পুরো বিষয়টি এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যাতে কোনো রেকর্ড থাকবে না এবং কর্মকর্তাদের কোনো শপথ নিতে হবে না। ইয়াসমিন আনসারি আরও যোগ করেন, প্রতিটি আইনপ্রণেতাকে প্রশ্ন করার জন্য মাত্র তিন মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল এবং কর্মকর্তাদের কোনো প্রারম্ভিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। তাঁদের আচরণে মনে হয়েছে যে তাঁরা কোনো কিছু ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত পণ্ড হয়ে যায় যখন হাউস ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার এক ডেমোক্র্যাট নারী সদস্যের প্রতি আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সদস্য বন্ডির বিরুদ্ধে সমন কার্যকর করা হবে কি না জানতে চাইলে কোমার বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখান, যার ফলে ক্ষুব্ধ ডেমোক্র্যাটরা ‘যথেষ্ট হয়েছে’ বলে একযোগে সভাকক্ষ ত্যাগ করেন। তবে জেমস কোমার এই অভিযোগ অস্বীকার করে ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করেছেন।
তাঁর মতে, ডেমোক্র্যাটদের প্রশ্ন করার যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তাঁরা কোনো ‘যৌক্তিক’ প্রশ্ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই পাল্টাপাল্টি দোষারোপের ফলে এপস্টেইন ফাইল প্রকাশ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হলো।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের কারাগারে যৌন পাচারের অভিযোগে বিচার চলাকালীন রহস্যজনকভাবে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল জেফরি এপস্টেইনকে। এর আগে ২০০৮ সালে ফ্লোরিডার একটি আদালতে তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ককে দেহব্যবসায় প্ররোচিত করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন, তবে সমালোচকরা সেই দণ্ডকে অত্যন্ত লঘু বা ‘সুইটহার্ট ডিল’ হিসেবে অভিহিত করে আসছেন।
দীর্ঘদিন ধরে এই মামলার পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছেন ডেমোক্র্যাটরা, কারণ তাঁদের ধারণা এর সঙ্গে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম জড়িত থাকতে পারে। বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেলের এই রুদ্ধদ্বার ব্রিফিং ডেমোক্র্যাটদের সেই সন্দেহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।

