ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল এবং পবিত্র নগরী জেরুজালেমে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোররাত থেকে ইরানে নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আইডিএফ এইমাত্র তেহরানে ইরানি শাসনের মূল অবকাঠামোগুলোর ওপর সুনির্দিষ্ট আঘাত হানা শুরু করেছে। এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এক নতুন ও ভয়াবহ মোড় নিল।
বিশেষ করে উত্তর ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি তেল শোধনাগারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিশাল অগ্নিকাণ্ড ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাওয়ার পর ইসরায়েল এই কঠোর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করল।
উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রাকৃতিক গ্যাস অবকাঠামোতে আঘাত না হানার জন্য ইসরায়েলকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সেই অনুরোধের একদিন পরই ইসরায়েল পুনরায় তেহরানকে লক্ষ্যবস্তু করায় যুদ্ধ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো কূটনৈতিক মীমাংসায় পৌঁছানোর আগেই এই সংঘাত শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
ইরানের পাল্টা হামলার শিকার হয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোও। বাহরাইন, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, শুক্রবার ভোররাতে তাদের ভূখণ্ডেও নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরানের এই ধারাবাহিক হামলার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংঘাত এখন কেবল ইরান বা ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করে তুলেছে।
আইডিএফ-এর পক্ষ থেকে তেহরানের ঠিক কোন কোন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা তেহরানের আকাশে দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখার কথা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং হাইফার তেল শোধনাগারের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ করছে দেশটির ফায়ার সার্ভিস। যুদ্ধের এই তৃতীয় সপ্তাহে এসে পাল্টাপাল্টি হামলার এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের মুদ্রাস্ফীতি ও মানবিক সংকটের শঙ্কা তৈরি করেছে।
সূত্র: রয়টার্স
