ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ১৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ২১০ জনই শিশু, যা চলমান যুদ্ধের মানবিক বিপর্যয়ের দিকটি প্রকট করে তুলেছে। গত কয়েক সপ্তাহের টানা সংঘাতে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষের জীবন চরম সংকটের মুখে পড়েছে এবং নিহতের এই পরিসংখ্যান ক্রমান্বয়ে আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এইচআরএএনএ-র তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের একটি বড় অংশই হলো সাধারণ বেসামরিক নাগরিক। সংস্থাটি এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৯৪ জন বেসামরিক ব্যক্তির মৃত্যু নিশ্চিত করেছে, যারা সরাসরি হামলা বা যুদ্ধের প্রভাবে প্রাণ হারিয়েছেন।
এ ছাড়া যুদ্ধের ময়দানে সরাসরি অংশ নেওয়া ১ হাজার ১৫৩ জন সামরিক সদস্যের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এর বাইরে আরও ৬৩৯ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে যাদের পরিচয় কিংবা মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই বিশেষ ক্যাটাগরির মৃত্যুগুলোকে সংস্থাটি ‘অমীমাংসিত’ হিসেবে তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
মানবাধিকার বিশ্লেষকরা বলছেন, বসতি এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো এই হামলাগুলো ইরানে একটি দীর্ঘমেয়াদী মানবিক সংকটের জন্ম দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই বিপুল সংখ্যক বেসামরিক প্রাণহানি নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে বিপুল সংখ্যক শিশুর মৃত্যু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘনের দিকে ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতিপূর্বে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনেও নিহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, যা বর্তমান প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের অভ্যন্তরীণ অবস্থা এবং উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে এই পরিসংখ্যান তৈরি করেছে।
যুদ্ধের তীব্রতা না কমলে নিহতের সংখ্যা আরও বহুগুণ বাড়তে পারে বলে সংস্থাটি সতর্ক করেছে। এর আগে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অন্যান্য সংস্থাও ইরানের বেসামরিক এলাকায় হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। যুদ্ধের এই ভয়াবহতা বিশ্বজুড়ে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে।
সূত্র: হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি
