যুদ্ধে নিরাপত্তার জন্য ইন্টারনেট ও ভিপিএন নজিরবিহীন নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২৬, ১৭:১১

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ায় ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করছে সরকার। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা, মেসেজিং অ্যাপ ও ভিপিএন সেবার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ডিজিটাল যোগাযোগে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে মস্কো। খবর রয়টার্সের

প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বশেষ সপ্তাহগুলোতে রাজধানী মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে প্রতিদিনই মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ থাকছে বলে জানিয়েছেন দেশটিতে অবস্থানরত কূটনীতিক ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদকরা। ফলে অফিস কর্মীদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে, তরুণদের বারবার ভিপিএন পরিবর্তন করতে হচ্ছে এবং অনলাইন নেভিগেশন না থাকায় ট্যাক্সিচালকরাও সমস্যায় পড়ছেন।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, এসব পদক্ষেপ আংশিকভাবে বিদেশি কোম্পানিগুলোর রুশ আইন মানতে অনীহা এবং আংশিকভাবে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে নেওয়া হচ্ছে।

সরকার ইতোমধ্যে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম ও ওয়ার্টসঅ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে। একই সঙ্গে শত শত ভিপিএন সেবা ব্লক করা হয়েছে, যাতে ব্যবহারকারীরা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে না পারে।

প্রতিবেদনে আরও হয়, মস্কোর এই পদক্ষেপের পেছনে মূল লক্ষ্য হিসেবে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা ও যুদ্ধকালীন সময়ে জনসমর্থন ধরে রাখা—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বা শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হলেও সম্ভাব্য ভিন্নমত দমন করতে এই সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারে ক্রেমলিন।

রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিসের নির্দেশে মোবাইল অপারেটরদের ব্যবহারকারীদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইন পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়াতে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

এছাড়া, গত কয়েক মাসে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর বিভিন্ন অঞ্চলে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতেই রাশিয়ায় ৪০০টিরও বেশি ভিপিএন সেবা ব্লক করা হয়েছে—যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

ইত্তেফাক/কেএইচ